আবারও যুদ্ধের মেঘ? ট্রাম্প-ইরান বৈঠকে মেলেনি রফা, হরমুজ প্রণালী নিয়ে চরমে উত্তেজনা

চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের পর বিশ্বশান্তি নিয়ে কোনো আশার আলো দেখা গেল না। যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে এই বৈঠক। সোমবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক টাইমস সূত্রে খবর, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবে মোটেও সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প। তবে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখে জানিয়েছেন, তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা ইতিবাচক হলেও তাতে অনেক ফাঁক রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব ও পরমাণু ইস্যু:
ইরানের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, তারা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়। কিন্তু শর্ত হলো, তাদের বিতর্কিত ‘পরমাণু কর্মসূচি’ নিয়ে আলোচনা এখন নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য স্থগিত রাখতে হবে। আমেরিকা এই শর্ত মানতে নারাজ। অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই-র যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগুনে ঘি ঢেলেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। রুবিওর প্রশ্ন, আড়ালে অন্য কেউ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও নয়া আইন:
আলোচনার এই অচলাবস্থার মাঝেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। আলোচনার ব্যর্থতার জন্য আমেরিকার ‘অতিরিক্ত দাবি’কেই কাঠগড়ায় তুলেছে তেহরান। এদিকে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন এক নতুন আইন এনেছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকবে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। ‘শত্রু দেশ’-এর জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সমস্ত আর্থিক লেনদেন ইরানের স্থানীয় মুদ্রা ‘রিয়াল’-এ করার কড়া প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
লেবাননে রক্তক্ষয় ও ইজরায়েলের হুঙ্কার:
একদিকে আলোচনার টেবিল, অন্যদিকে লেবাননে ইরানের মদতপুষ্ট হিজবুল্লাহর হামলা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। হিজবুল্লাহর নতুন হামলায় ৪ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হওয়ার পর ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাশেম ‘আগুন নিয়ে খেলছেন’। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নাগরিকদের রক্ষায় সামরিক পদক্ষেপ থামবে না। ইসলামাবাদ থেকে লেবানন—মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ এখন আরও ঘনীভূত।