প্রায় দুই মাস ধরে রুদ্ধ থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করল প্রথম এলএনজি (LNG) বাহী জাহাজ। মার্চ মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি অতিক্রম করল। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ‘দ্য মুবারাজ’ নামের এই জাহাজটি বর্তমানে ভারতের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে এই সামান্য স্বস্তির মাঝেই ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। তেহরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি হলেও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনায় বসতে নারাজ, যা হোয়াইট হাউসকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবার ইরানকে সরাসরি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তেহরানকে মাত্র তিন দিনের ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই না করে, তবে তাদের তেল পাইপলাইনগুলো ‘ভিতর থেকে বিস্ফোরণ’ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের দাবি, কারিগরি এবং প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যাতে ইরানের তেল রফতানি পরিকাঠামো চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়।
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন হুমকিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “তেল যদি জাহাজে ভরা না যায় এবং সরবরাহ বন্ধ থাকে, তবে সেই পাইপলাইনগুলো আর কখনও আগের অবস্থায় ফেরানো যাবে না।” একদিকে ভারতের মতো দেশগুলো যখন জ্বালানি সরবরাহের আশায় চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের এই চরম সময়সীমা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।





