মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কই যেন এখন ইস্টবেঙ্গলের বড় প্রতিপক্ষ। আনোয়ার আলি এবং রাশিদকে নিয়ে আইনি ধোঁয়াশা ও নির্বাসনের মেঘ কাটছেই না। তার মধ্যেই গোয়ার তপ্ত মাটিতে ওড়িশা এফসি-র মুখোমুখি হতে চলেছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। লক্ষ্য একটাই— সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে লিগ টেবিলের প্রথম চারে জায়গা করে নেওয়া।
ভ্যানু বিভ্রাট: কলকাতা নয়, গন্তব্য গোয়া
প্রাথমিকভাবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি কলকাতায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলায় নির্বাচনের দামামা বেজে যাওয়ায় নিরাপত্তার কারণে শেষ মুহূর্তে ম্যাচটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গোয়ায়। ঘরের মাঠের চেনা দর্শক ও সমর্থকদের গগনভেদী চিৎকারের যে সুবিধা ইস্টবেঙ্গল পেত, তা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে কুয়াদ্রাতের ছেলেদের।
মিগুয়েল নেই, আনোয়ার-রাশিদকে নিয়ে টালবাহানা
ইস্টবেঙ্গল শিবিরে দুঃসংবাদ আরও আছে। কার্ড সমস্যার কারণে নির্বাসিত হওয়ায় এই ম্যাচে নামতে পারবেন না দলের অন্যতম ভরসা মিগুয়েল। অন্যদিকে, আনোয়ার আলি এবং রাশিদকে খেলানো যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও আইনি জট খোলেনি। ম্যানেজমেন্ট সূত্রে আপ্রাণ চেষ্টা চললেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একটা ‘অনিশ্চয়তা’ থেকেই যাচ্ছে।
কুয়াদ্রাতের রণকৌশল
দলের কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত অবশ্য হাল ছাড়তে নারাজ। তিনি জানেন, ওড়িশা এফসি শক্তিশালী দল, বিশেষ করে গোয়ার পরিবেশে তারা ভয়ঙ্কর। তবে ইস্টবেঙ্গলের লক্ষ্য পরিষ্কার—
ডিফেন্স সামলানো: আনোয়ার না থাকলে রক্ষণভাগ সামলানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
কাউন্টার অ্যাটাক: মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল সাপ্লাই দিয়ে বিপক্ষকে চাপে রাখা।
মানসিক শক্তি: প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা।
বিশেষ মন্তব্য: ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই ম্যাচ থেকে ইস্টবেঙ্গল তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে আনতে পারে, তবে তা মরসুমের অন্যতম সেরা জয় হিসেবে গণ্য হবে। এখন দেখার, সব বিতর্ক দূরে সরিয়ে মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি কারা হাসে।





