বৈশাখী ঝড়ের দাপটে কোচবিহারের জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল শীতলকুচি। রবিবার রাতে প্রবল বজ্রপাতের জেরে একটি বাড়িতে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়ে গেল সর্বস্ব। আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিয়েছে পরিবারের সম্বল ২টি গবাদি পশুর প্রাণ। অভিযোগ, রাস্তা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় খবর পেয়েও এলাকায় ঢুকতে পারেনি দমকলের ইঞ্জিন, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?
কোচবিহার জেলার শীতলকুচি ব্লকের গোসাইরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের খারিজা ধাপেরচাত্রা এলাকায় বাসিন্দা কপিল মিঞার পরিবার তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। হঠাৎ বিকট শব্দে বাড়ির ওপর বাজ পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে ঘর।
সর্বস্বান্ত পরিবার: বাড়ির মালিক কপিল মিঞা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে চোখের সামনে তাঁর তামাকের গোলা (প্রায় ৮০ মণ তামাক), আসবাবপত্র এবং ফসল সব পুড়ে খাক হয়ে যায়।
প্রাণহানি: গোয়ালে থাকা ৬টি গরুর মধ্যে দুটি গরু জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যায়। পরিবারের সদস্যরা কোনোক্রমে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচান।
বেহাল রাস্তা ও প্রশাসনের ব্যর্থতা
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই দমকলে খবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ— গ্রামের রাস্তা এতটাই খারাপ যে দমকলের গাড়ি মাঝপথেই আটকে যায়। গ্রামবাসীরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে একটি ঘর পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।
প্রশাসনের আশ্বাস
সোমবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে দেখা করতে পৌঁছান শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মদন বর্মন। তিনি বলেন:
“রবিবার রাতে খবর পেয়েই আমি দমকলকে জানাই। কিন্তু খারাপ রাস্তার জন্য গাড়ি ঢুকতে পারেনি। শর্ট সার্কিট বা বাজ পড়েই এই বিপর্যয়। আমরা ব্লক প্রশাসন ও দলীয় স্তর থেকে এই পরিবারটিকে সবরকম সাহায্যের ব্যবস্থা করছি।”
শোকের ছায়া এলাকায়
মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে কপিল মিঞার পরিবার। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাড়ির মহিলারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার না করলে আগামী দিনে এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।
সম্পাদকের নোট: আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বজ্রগর্ভ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। ঝড়ের রাতে নিরাপদ স্থানে থাকার এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।





