রক্ষকই যখন ভক্ষক! মাঝরাতে রাজধানী দিল্লিতে খোদ পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভারের গুলিতে প্রাণ হারালেন ২১ বছরের এক ফুড ডেলিভারি কর্মী। গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর আরও এক বন্ধু। অভিযুক্ত পুলিশকর্মী নীরজ বালহারাকে হরিয়ানার রোহতক থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
🚨 ঠিক কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?
রবিবার রাত তখন প্রায় আড়াইটে। জাফরপুর কালান গ্রামে এক বন্ধুর ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠান সেরে বাড়ি ফিরছিলেন পাণ্ডব কুমার (২১) ও তাঁর বন্ধুরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, পাণ্ডব ও তাঁর বন্ধু কৃষ্ণ একটি মোটরসাইকেলে বসে রাস্তার ধারে অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় উল্টো দিকের বাড়ি থেকে নীচে নেমে আসেন অভিযুক্ত নীরজ।
অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় তাঁদের গালিগালাজ শুরু করেন নীরজ। বচসা চলাকালীন আচমকাই জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে নিজের সার্ভিস রিভলভার বের করে খুব কাছ থেকে পাণ্ডবের বুক লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি।
🔫 একটি গুলিতেই দুই শিকার
নৃশংসতা এখানেই শেষ নয়। নীরজের চালানো গুলিটি পাণ্ডবের বুক ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং ঠিক পিছনে বসে থাকা কৃষ্ণের পেটের ডান দিকে গিয়ে লাগে। তড়িঘড়ি তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা পাণ্ডবকে মৃত ঘোষণা করেন। কৃষ্ণ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
🚔 খাতায় কলমে কে এই নীরজ?
তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত নীরজ বালহারা দিল্লি পুলিশের ‘স্পেশাল সেল’-এ কর্মরত। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর পদমর্যাদা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে মৃতের পরিবারের দাবি তিনি একজন হেড কনস্টেবল। ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি, রোহতকের কাছে ধরা পড়েন তিনি।
💔 শোকে পাথর পরিবার
মৃত পাণ্ডবের বন্ধু রূপেশ কুমারের বাড়িতেই জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল। রূপেশ জানান, “গাড়িগুলো বেরিয়ে যাওয়ার পরই নীরজ ছাদ থেকে নেমে এসে অভদ্র আচরণ শুরু করে। আমরা ওকে আগে কখনও দেখিনি। কিছু বোঝার আগেই ও গুলি চালিয়ে দিল।”
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের একজন সদস্যের এমন হঠকারী ও অপরাধমূলক আচরণে রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।





