২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে বঙ্গ রাজনীতিতে গ্ল্যামার বাড়ালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির পোস্টার বয় যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। সোমবার দুপুরে হুগলি জেলায় পা রেখেই নিজের রাজনৈতিক সফর শুরু করলেন শৈবতীর্থ তারকেশ্বরে পুজো দেওয়ার মাধ্যমে।
সকাল থেকেই তারকেশ্বর মন্দির চত্বরে কড়া নিরাপত্তা জারি ছিল। গেরুয়া বসনধারী মুখ্যমন্ত্রীকে এক ঝলক দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। মাথায় তিলক আর গলায় মালা নিয়ে মন্দির থেকে বেরিয়েই সরাসরি রণহুঙ্কার দিলেন যোগী।
তারকেশ্বরে ভক্তি, সভায় শক্তি
পুজো দেওয়ার পর স্থানীয় বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে এক বিশাল জনসভায় যোগ দেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর বক্তব্যের প্রধান পয়েন্টগুলো ছিল:
তোষণ রাজনীতির আক্রমণ: যোগী দাবি করেন, “বাংলায় দুর্গাপুজো বা রামনবমী পালন করতে গেলে এখন অনুমতি নিতে হয়, কিন্তু অপরাধীদের জন্য সরকারের দরজা খোলা থাকে।”
উন্নয়নের মডেল: উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “বিজেপি এলে বাংলাতেও সিন্ডিকেট রাজ আর তোলাবাজি বন্ধ হবে।”
রাম মন্দিরের প্রতিধ্বনি: অযোধ্যার রাম মন্দিরের কথা উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের আবেগ ছুঁতে চেষ্টা করেন এবং দাবি করেন যে বাংলার সংস্কৃতি রক্ষায় বিজেপিই একমাত্র বিকল্প।
কেন নজরে হুগলি?
আগামী ২৯ এপ্রিল হুগলি জেলার একাধিক আসনে ভোটগ্রহণ। এই জেলায় একদিকে যেমন মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, অন্যদিকে গ্রামীণ ও কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে বিজেপি নিজেদের জমি শক্ত করতে চাইছে। যোগী আদিত্যনাথের মতো হিন্দুত্ববাদী নেতার উপস্থিতি ধর্মপ্রাণ ভোটারদের মধ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
জনতার উচ্ছ্বাস ও বিরোধীদের কটাক্ষ
যোগীর সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ‘বুলডোজার বাবা’ স্লোগানও শোনা যায়। তবে এই সফরকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “নিজের রাজ্য সামলাতে না পেরে যোগী বাংলায় পর্যটন করতে এসেছেন, এখানকার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পাশেই থাকবে।”
নির্বাচনী আপডেট: দ্বিতীয় দফার ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে যোগী আদিত্যনাথের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হুগলি ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে পদ্ম শিবিরের পালে কতটা হাওয়া টানে, এখন সেটাই দেখার।





