“অভিনেতা নই, এখন আমি দিদির কর্মী!” বনগাঁয় বিশ্বজিতের হয়ে ভোট ময়দানে ঝড় তুললেন বনি!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ। আর সোমবার বিকেলের তপ্ত রোদে সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন টলিউড অভিনেতা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী বনি সেনগুপ্ত

এদিন বনগাঁর তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসের সমর্থনে এক বিশাল রোড-শো ও নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন বনি। রুপোলি পর্দার তারকাকে চোখের সামনে দেখতে মানুষের ঢল নামে বনগাঁর রাস্তায়। কিন্তু অভিনেতা হিসেবে নয়, বনি নিজেকে তুলে ধরলেন মা-মাটি-মানুষের একজন একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে।

“অভিনেতা নই, আমি ঘাসফুলের কর্মী”

মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জনতা। আবেগঘন কণ্ঠে বনি বলেন,

“আপনারা আমাকে অভিনেতা হিসেবে চেনেন, অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন। কিন্তু আজ আমি এখানে অভিনেতা বনি হিসেবে আসিনি। আমি এসেছি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে। মানুষের জন্য কাজ করাই এখন আমার মূল লক্ষ্য।”

বিশ্বজিতের জয়ে কেন আত্মবিশ্বাসী বনি?

নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বনি জানান, উন্নয়নের নিরিখে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ফের ক্ষমতায় আনবেন। বিশ্বজিৎ দাসের হয়ে সওয়াল করে তিনি বলেন,

  • মানুষের সঙ্গে সংযোগ: বিশ্বজিৎবাবু সারাবছর মানুষের পাশে থাকেন, তাকে আলাদা করে চেনানোর প্রয়োজন নেই।

  • দিদির উন্নয়ন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে কন্যাশ্রী— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পগুলোই তৃণমূলের প্রধান হাতিয়ার।

  • বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ: বনগাঁর মাটিতে গেরুয়া শিবিরের কোনো প্রভাব খাটবে না বলে আত্মবিশ্বাসী অভিনেতা।

নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে

আগামী ২৯ এপ্রিল বনগাঁ-সহ ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। তার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— হেভিওয়েটদের ভিড়ে বনি সেনগুপ্তের মতো তরুণ অভিনেতার এই সরাসরি রাজনীতির ময়দানে লড়াই তৃণমূলের পালে কতটা হাওয়া টানে, এখন সেটাই দেখার।

বনি সেনগুপ্তের এই ‘কর্মী’ অবতারকে ঘিরে এখন সরগরম নেটদুনিয়া। ভাইরাল এই খবরে সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, বনগাঁর ঘাসফুল শিবিরে যে আজ নতুন অক্সিজেন এল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy