দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলায় রণংদেহি মেজাজে নির্বাচন কমিশন। ভাঙড় থেকে জগদ্দল—বিস্ফোরক উদ্ধার আর বোমাবাজির বিরামহীন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার স্ট্র্যাটেজি আমূল বদলে ফেলল কমিশন। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি করা হয়েছে ‘রেড জোন’। ভাঙড়, ব্যারাকপুর, আরামবাগ, খানাকুল এবং কাকদ্বীপের মতো সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকাগুলোকে এই বিশেষ জোনের আওতায় এনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। এবার শুধু ড্রোনে নজরদারি নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের শরীরে লাগানো থাকছে কয়েক গুণ বেশি ‘বডি-ক্যামেরা’। মোতায়েন থাকছে প্রায় ২২০০ থেকে ২৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের কড়া বার্তা—যদি কোনও এলাকায় বোমা মজুত বা বেআইনি কার্যকলাপের খবর পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি বা আইসি-কে সরাসরি দায়ী করা হবে এবং তাঁদের নজিরবিহীন প্রশাসনিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
শনিবার রাতভর অভিযানে ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ নজর থাকছে ভাঙড়ের ওপর, যেখানে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ভোটারদের ভয় দেখানো রুখতে এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে এবার অতিরিক্ত এরিয়া ডমিনেশন এবং সাঁজোয়া গাড়ির টহলদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মনোজ আগরওয়ালের হুঙ্কার, “নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কাউকে ভোট আটকাতে দেব না; যে আটকানোর চেষ্টা করবে, সে নিজেই আইনের জালে আটকে যাবে।”





