নির্বাচনী পারদ চড়তেই ফের স্বমহিমায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার আর কোনও রাখঢাক নয়, কালীঘাটের অদূরে পটুয়াপাড়ার মঞ্চ থেকে সরাসরি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন তিনি। তাঁর আক্রমণাত্মক বক্তব্যে উঠে এল ‘দুবাইয়ের টিকিট’ থেকে শুরু করে ৪ মে-র রহস্যময় এক সময়সীমা। শুভেন্দুর এই ‘আগাম বাণী’ নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহল।
৪ মে-র ‘ডেডলাইন’ ও দুবাই প্রসঙ্গ
এদিন পটুয়াপাড়ার জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূল সরকারের শেষের দিন ঘনিয়ে এসেছে। জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “চোরেদের রাণীর অবস্থা এখন খুবই খারাপ। ৪ মে-র সিন আমি এখনই বলে দিচ্ছি, সেদিন কী হবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারছে না।” এর পরেই বিস্ফোরক ভঙ্গিতে তাঁর সংযোজন, “বড় বড় সব জেল খাটছে, এবার বাকিদের পালা। পালানোর জন্য দুবাইয়ের টিকিট এখনই কেটে রাখুন!”
শুভেন্দুর বক্তৃতার মূল পয়েন্টগুলো:
কড়া আক্রমণ: মুখ্যমন্ত্রীকে ‘চোরেদের রাণী’ বলে সম্বোধন করে দুর্নীতির অভিযোগে বিঁধলেন তিনি।
বিজেপির হুঙ্কার: পটুয়াপাড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানান, পিসির পাড়াতেও এবার পদ্ম ফুটবে এবং বিজেপির জয় নিশ্চিত।
প্রশাসনের প্রতি বার্তা: পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না।
“পটুয়াপাড়ার এই মাটি বলছে, পরিবর্তন শুধু সময়ের অপেক্ষা। যারা বাংলাকে লুটেছে, তাদের জায়গা হবে ওপারে, না হলে জেলখানায়।” — শুভেন্দু অধিকারী
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
শুভেন্দুর এই ৪ মে-র তত্ত্ব নিয়ে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, তিনি স্রেফ মানসিক চাপ তৈরি করতে অবাস্তব কথা বলছেন। ৪ মে এমন কী হতে চলেছে যা শুভেন্দু আগেভাগেই জানেন? এই প্রশ্নের উত্তরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনও বড় আইনি পদক্ষেপ বা সিবিআই-ইডি-র কোনো নয়া অ্যাকশনের ইঙ্গিত দিইয়েই কি এই হুঙ্কার?
শুভেন্দুর এই ‘দুবাই টিকিট’ কটাক্ষ এবং ৪ মে-র রহস্য রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে। এখন দেখার ৪ মে সত্যিই বাংলার রাজনীতিতে কোনও বড় বিস্ফোরণ ঘটে কি না।





