সম্পর্কের পবিত্রতা ভেঙে খানখান। যে বাবার কাছে মেয়ের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেই বাবার হাতেই দিনের পর দিন লালসার শিকার হতে হলো এক নাবালিকাকে। শুধু নির্যাতনই নয়, বাবার পৈশাচিকতায় গর্ভবতী হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। সম্প্রতি একটি সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর প্রকাশ্যে আসে এই হাড়হিম করা ঘটনা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বেশ কিছুদিন ধরে। কিশোরীর মা কর্মসূত্রে বা অন্য কোনো কারণে বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত বাবা নিজের নাবালিকা মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন শুরু করে। লোকলজ্জা আর ভয় দেখিয়ে কিশোরীর মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক পরিবর্তনের ফলে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আর চাপা থাকেনি।
কীভাবে প্রকাশ্যে এল বিষয়টি?
কিশোরীটি অসুস্থ বোধ করলে এবং প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সে একটি সন্তানের জন্ম দেয়। এরপরই চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জেরার মুখে ভেঙে পড়ে ওই নাবালিকা। সে জানায়, বাইরে থেকে কেউ নয়, বরং নিজের জন্মদাতা বাবাই তার এই অবস্থার জন্য দায়ী।
পুলিশি পদক্ষেপ
হাসপাতাল থেকে খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেয় স্থানীয় থানার পুলিশ। নির্যাতিতার বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে:
POCSO আইন: শিশু যৌন নির্যাতন বিরোধী কড়া পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
ধর্ষণ ও হুমকি: ধর্ষণের ধারা সহ ভয় দেখানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং কিশোরী ও নবজাতকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীদের উদ্বেগ
এই ঘটনা সমাজ ও পরিবারের সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সমাজকর্মীদের মতে, ঘরের ভেতরেই যখন শিশুরা অসুরক্ষিত হয়ে পড়ছে, তখন সচেতনতা বাড়ানো এবং শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে শিক্ষিত করা অত্যন্ত জরুরি।
“এটি কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি মানবিকতার চরম বিপর্যয়। অপরাধীর এমন শাস্তি হওয়া উচিত যা উদাহরণ হয়ে থাকে।” — জনৈক সমাজকর্মী।
বর্তমানে নির্যাতিতা কিশোরী ও তার সন্তান চিকিৎসাধীন। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে যাতে অভিযুক্তের কঠোরতম সাজা নিশ্চিত করা যায়।





