২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রাক্কালে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরের নির্বাচনী সভা থেকে এদিন তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Forces) কাঠগড়ায় তুলে এক মারাত্মক অভিযোগ করলেন। মমতার দাবি, কিছু এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে এবং সুকৌশলে ইভিএম (EVM) দখল করার চেষ্টা করছে।
মমতার বিস্ফোরক দাবি:
এদিন ভবানীপুরের জনসভায় দাঁড়িয়ে মমতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। তিনি বলেন:
“আমি খবর পাচ্ছি, অনেক জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ মানুষকে বুথে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। ওরা ইভিএম দখল করার চেষ্টা করছে যাতে সাধারণ মানুষের ভোটটা ওরা নিজেদের মতো করে দিয়ে দিতে পারে। আমি কমিশনকে সতর্ক করছি, এই ধরণের ঘটনা ঘটলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না।”
‘মোদী-শাহ-এর বাহিনী’ বলে তোপ
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই বাহিনী দেশের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং বাংলায় বিজেপিকে জেতাতে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, “বাইরে থেকে ২ লক্ষ ফোর্স নিয়ে এসে আমাদের মা-বোনেদের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমাদের পুলিশকে বসিয়ে রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।”
পাল্টা চ্যালেঞ্জ বিজেপির
মমতার এই অভিযোগের কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, “হার নিশ্চিত জেনেই মুখ্যমন্ত্রী এখন কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ইভিএম-এর ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী কেবল নিরাপত্তা দেয়, ভোট করায় কমিশন। তাঁর এই অভিযোগ আসলে পরাজয়ের আগাম অজুহাত।”
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরণের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। সূত্রের খবর, কমিশন প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিং (Webcasting) এবং কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করছে যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বুথ দখলের অভিযোগ না ওঠে।
ভবানীপুরের সভা থেকে মমতার এই অভিযোগ দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়াকে আরও তপ্ত করে তুলল। সাধারণ ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





