বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের রুপোর ভাণ্ডারে বিশাল কেলেঙ্কারি! কোটি কোটি টাকার নয়ছয়, মাথায় হাত ভক্তদের

কোটি কোটি ভক্তের আস্থার কেন্দ্রস্থল কাটরা-র শ্রীমাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের (SMVDSB) রুপোর ভাণ্ডারে হদিস মিলল এক বড়সড় কেলেঙ্কারির। মন্দিরের রুপোর ভাণ্ডার বা ইনভেন্টরিতে কয়েক কুইন্টাল রুপোর হিসাবে বড় ধরণের গরমিল ধরা পড়েছে। খোদ শ্রাইন বোর্ডের অডিট রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

কীভাবে ধরা পড়ল এই জালিয়াতি?

দীর্ঘদিন ধরেই মন্দিরের দানসামগ্রী নিয়ে অভ্যন্তরীণ অডিট চলছিল। বোর্ড সূত্রে খবর:

  • ওজনে গরমিল: খাতায়-কলমে যে পরিমাণ রুপো জমা হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে ভাণ্ডারে তার চেয়ে অনেক কম রুপো পাওয়া গেছে।

  • শুদ্ধতায় সংশয়: উদ্ধার হওয়া রুপোর একটি বড় অংশ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলোতে বিপুল পরিমাণে খাদের মিশ্রণ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভক্তদের দেওয়া খাঁটি রুপোর অলঙ্কার ও কয়েন সরিয়ে সেখানে কম দামী ধাতু মেশানো হয়েছে।

  • বিপুল পরিমাণ সম্পদ: প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েক কুইন্টাল রুপো এই নয়ছয়ের তালিকায় রয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।

তদন্তের মুখে পদস্থ আধিকারিকরা

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে শ্রাইন বোর্ড প্রশাসন। মন্দিরের ট্রেজারি বা কোষাগারের দায়িত্বে থাকা একাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান আধিকারিক এখন তদন্তের স্ক্যানারে। সন্দেহ করা হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র এই রুপো পাচারের কাজ চালিয়েছে।

শ্রাইন বোর্ডের কড়া পদক্ষেপ

বোর্ডের একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন:

“ভক্তদের আবেগের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অডিট রিপোর্টে যা পাওয়া গেছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ

প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ বৈষ্ণোদেবীর চরণে সোনা ও রুপো দান করেন। এই দানসামগ্রী নিয়ে দুর্নীতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভক্ত মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দান করা অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও স্বচ্ছ ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। মন্দিরের পবিত্রতা এবং ভক্তদের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে আগামী দিনে আরও বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।


Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy