ভোটের ফল বেরোতে এখনও ঢের দেরি, কিন্তু তার আগেই তিলোত্তমার বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে এক বিশেষ রঙ নিয়ে। সৌজন্যে রাজনীতির লড়াই। দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ এখনও বাকি, কিন্তু তার আগেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাইকারি বাজারগুলোতে ‘আউট অফ স্টক’ হয়ে গিয়েছে গেরুয়া আবির। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক দিনে যে পরিমাণ আবির বিক্রি হয়েছে, তা সাধারণত দোল বা হোলির সময় দেখা যায়।
বড়বাজার থেকে হাতিবাগান— সর্বত্রই অমিল!
কলকাতার সবচেয়ে বড় আবিরের আড়ত বড়বাজারে গিয়ে দেখা গেল এক অদ্ভুত চিত্র। দোকানদারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাঁদের কথায়:
রেকর্ড চাহিদা: সকাল থেকে লাইন দিয়ে গেরুয়া আবির কিনছেন কর্মীরা। কেউ ১০ কেজি, কেউ আবার আস্ত বস্তাই তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।
অন্য রঙের চাহিদা কম: লাল বা সবুজ আবিরের স্টক থাকলেও গেরুয়া আবিরের ভাঁড়ার প্রায় শূন্য।
দাম বৃদ্ধি: চাহিদা তুঙ্গে থাকায় অনেক জায়গায় আবিরের দামও সাধারণ সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিজেপির ‘আগাম জয়’ নাকি রণকৌশল?
গেরুয়া আবিরের এই বিপুল চাহিদাকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি শিবিরের দাবি, মোদীজির জনসভা এবং দ্বিতীয় দফার প্রচার ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন এই আবির কেনা। কর্মীরা এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে ভোট মিটলেই জয়ের আবির ওড়াতে তাঁরা তৈরি। অন্যদিকে, বিজেপির এই ‘আবির-উন্মাদনা’কে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, “ভোটের ফলে লাল-সবুজই থাকবে, বেশি আবির কিনে গেরুয়া কর্মীরা কেবল পয়সা নষ্ট করছেন।”
উৎসবের মেজাজ অলি-গলিতে
ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে মোদীর পুজোর পর থেকেই উত্তর কলকাতায় গেরুয়া আবিরের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল। উত্তর কলকাতার ছোট দোকানগুলোতে এখন মোদী-রাহুল বা দিদির পোস্টারের চেয়েও বেশি চাহিদা গেরুয়া আবিরের প্যাকেটের।
ব্যবসায়ীরা কী বলছেন?
বড়বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান:
“আমরা সাধারণত ভোটের ফলের দিনের জন্য স্টক রাখি। কিন্তু এবার ভোটের কয়েক দিন আগেই যে ভাবে গেরুয়া আবির শেষ হয়ে গেল, তেমনটা আগে দেখিনি। আরও অর্ডার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সাপ্লাই আসতে দেরি আছে।”
ভোটের লড়াইয়ে জেতা-হারা যে-ই হোক না কেন, আবিরের বাজারে এই গেরুয়া ঝড় আপাতত নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।





