দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে এবার খাকি উর্দির ওপর কড়া নজরদারি নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, কোনো এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানো বা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি (OC) বা আইসি (IC)-কে চরম এবং নজিরবিহীন পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। পুলিশের ওপর কমিশনের এই ‘চরমবার্তা’ রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কেন এই কড়া দাওয়াই?
প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর এসেছে। কোথাও ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া, আবার কোথাও ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছিল স্থানীয় পুলিশের একাংশের দিকেও। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দ্বিতীয় দফার আগে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন।
কমিশনের নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে:
ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা: যদি কোনো এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটে, তবে সরাসরি ওই থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে দায়ী করা হবে।
বেনজির শাস্তি: কেবল বদলি নয়, বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি বা কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নিরপেক্ষতা বজায় রাখা: পুলিশকে কোনো দলের হয়ে কাজ না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাপে পুলিশ প্রশাসন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ‘কারেন্ট অফ’ করে ইভিএম লুটের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, ঠিক তখনই কমিশনের এই পাল্টা হুঁশিয়ারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, স্থানীয় পুলিশ তৃণমূলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করে। কমিশনের এই কড়া অবস্থানে সেই সব এলাকায় পুলিশের সক্রিয়তা এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।
স্পেশাল অবজার্ভারদের নজরদারি
দ্বিতীয় দফায় বুথগুলোর বাইরে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ওসি-আইসিদের গতিবিধি এবং কল রেকর্ডের ওপরও বিশেষ নজরদারি রাখা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
নির্বাচন কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি দ্বিতীয় দফার ভোটকে কতটা শান্তিপূর্ণ করতে পারে, এখন তা-ই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।





