আম আদমি পার্টির (AAP) অন্দরে চরম ডামাডোল! দলেরই রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডা-সহ মোট সাত জন সদস্যের সদস্যপদ খারিজ করার আবেদন জানিয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠাল দল। লোকসভা নির্বাচনের আবহে দলের এই ‘ঘর গোছানোর’ কৌশল নাকি অন্তর্কলহ, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
সূত্রের খবর, দলের নির্দেশ অমান্য করা এবং দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজের অভিযোগ তোলা হয়েছে এই সাত সাংসদের বিরুদ্ধে। আম আদমি পার্টির সংসদীয় দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই তাঁদের সদস্যপদ বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়কে। তালিকায় রাঘব চাড্ডার মতো হাই-প্রোফাইল নেতার নাম থাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
চিঠিতে কী উল্লেখ করা হয়েছে?
আপ-এর পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে দলত্যাগী বা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়া সদস্যদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে খুব বেশি মুখ খোলেননি অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সাংসদদের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব মেটাতেই এই কঠোর আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটল আপ।
সাংসদদের ভবিষ্যৎ এখন কার হাতে?
রাজ্যসভার নিয়ম অনুযায়ী, এখন বল চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়ের কোর্টে। তিনি অভিযোগ খতিয়ে দেখে এই আবেদন গ্রহণ করলে বিপাকে পড়তে পারেন রাঘব-সহ ওই সাত সাংসদ। সে ক্ষেত্রে তাঁদের সাংসদ পদ চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
একদিকে দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় জেল ও জামিনের রাজনীতি, অন্যদিকে দলের অন্দরে এই বিদ্রোহ— দুই মিলিয়ে আম আদমি পার্টি এখন প্রবল চাপের মুখে। এই সাত সাংসদ যদি সত্যিই সদস্যপদ হারান, তবে রাজ্যসভায় আপ-এর শক্তি যেমন কমবে, তেমনই বিরোধী জোটেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।





