পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার করতে তিলোত্তমায় পা রাখলেন আম আদমি পার্টির (AAP) জাতীয় আহ্বায়ক তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের উপস্থিতিতে এক জনসভা থেকে তিনি বিজেপিকে ‘ভয়ঙ্কর’ আখ্যা দিয়ে সাফ জানালেন, এই পরিস্থিতিতে কেবল মমতাদিদিই বাংলাকে বাঁচাতে পারেন।
বিজেপিকে ‘ভয়ঙ্কর’ আক্রমণ: এদিন কেজরিওয়াল তাঁর ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপিকে তুলোধোনা করেন। তিনি বলেন, “বিজেপি দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে ফেলতে চাইছে। ওরা এজেন্সিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ভয়ঙ্কর শক্তিকে যদি কেউ রুখতে পারে, তবে তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” তাঁর দাবি, মোদী সরকার বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের লড়াইয়ে অটল থেকেছেন।
মমতাই কেন রক্ষাকর্তা? কেজরিওয়ালের মতে, পশ্চিমবঙ্গ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। তিনি বলেন, “দিল্লিতে আমরা কাজ করি, আর বাংলায় দিদি কাজ করেন। দিদির প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। আজ বিজেপি বাংলাকে দখলের যে চেষ্টা করছে, তা রুখতে মমতাদিদির মতো লড়াকু নেত্রীর হাত শক্ত করা প্রয়োজন।” কুণাল ঘোষের সঙ্গে যৌথ প্রচার চলাকালীন তিনি বাংলার ভোটারদের উদ্দেশ্যে আবেদন করেন, “আপনারা দিদিকে জয়ী করুন, কারণ তিনিই এই বিপদের দিনে আপনাদের আসল রক্ষাকর্তা।”
কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া: তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কেজরিওয়ালের উপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “অরবিন্দজি আজ আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করে দিলেন যে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে ইন্ডিয়া জোট কতটা ঐক্যবদ্ধ। বিজেপি বাংলায় হেরে ভূত হবে, আর দিদি ফের ক্ষমতায় আসবেন।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য: দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে কেজরিওয়ালের এই সফর এবং সরাসরি মমতার পক্ষে সওয়াল করার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে কলকাতার মধ্যবিত্ত ও পেশাদার ভোটারদের মধ্যে কেজরিওয়ালের একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে, যা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এক নজরে কেজরিওয়ালের বার্তা:
বিজেপিকে রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের বিকল্প নেই।
এজেন্সি রাজের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াইয়ের ডাক।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা।





