লোকসভা নির্বাচনের আবহে বঙ্গ সফরে এসে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ নদীয়ার কৃষ্ণনগরে এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিরোধী জোট এবং তৃণমূল কংগ্রেস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নরম মনোভাব পোষণ করত। শাহের দাবি, “তৃণমূল আমলে জঙ্গিদের বিরিয়ানি খাওয়ানো হতো।”
অমিত শাহের আক্রমণাত্মক ভাষণ: কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে এসে অমিত শাহ দেশের নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে ঢাল করেন। তিনি বলেন, “একদিকে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, যিনি সন্ত্রাসবাদকে সমূলে বিনাশ করতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেন। আর অন্যদিকে দিদি এবং তাঁর সহযোগীরা, যাঁরা ক্ষমতায় থাকাকালীন জঙ্গিদের তোষণ করেছেন এবং তাদের বিরিয়ানি খাইয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, ইউপিএ সরকারের সময় মুম্বই হামলার মতো ঘটনা ঘটলেও ভারত কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয়নি, কিন্তু মোদী জমানায় ভারত জবাব দিতে শিখেছে।
অনুপ্রবেশ ও সিএএ (CAA) প্রসঙ্গ: নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো সীমান্ত ঘেঁষা জেলাগুলোতে অনুপ্রবেশ একটি বড় ইস্যু। শাহ এদিন সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে বলেন, “দিদি অনুপ্রবেশকারীদের ভয় পান না কারণ তাঁরা ওঁর ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, বিজেপিকে ভোট দিন, সীমানা দিয়ে একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না।” একইসাথে তিনি মতুয়া অধ্যুষিত এই এলাকায় সিএএ নিয়ে বিরোধীদের প্রচারকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেন।
দুর্নীতি ও সন্দেশখালি ইস্যু: ভাষণের এক বড় অংশে ছিল সন্দেশখালি এবং রাজ্যের দুর্নীতির প্রসঙ্গ। শাহ বলেন, “বাংলার মানুষ দেখেছে কীভাবে শাহজাহান শেখের মতো লোকেরা মা-বোনেদের ওপর অত্যাচার করেছে। দিদি এই অত্যাচারীদের আড়াল করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আদালত এবং কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের শ্রীঘরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।”
রাজনৈতিক সমীকরণ: কৃষ্ণনগর আসনটি এবার বিজেপির কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। একদিকে রাজমাতা অমৃতা রায় এবং অন্যদিকে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র। এই হাই-প্রোফাইল লড়াইয়ে অমিত শাহের এই ‘বিরিয়ানি’ মন্তব্য যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।
এক নজরে অমিত শাহের তোপ:
সন্ত্রাস দমনে মোদী সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।
তৃণমূলের আমলে অপরাধী ও জঙ্গিরা তোষণ পেয়েছে।
২০২৬-এর বিধানসভার ভিত এই লোকসভা ভোটেই তৈরি হবে।





