লোকসভা নির্বাচনের আবহে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের বিদায়ী সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, ভোট মিটতেই এখন কংগ্রেসের সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থীদের টোপ দেওয়া শুরু করেছে পেশাদার ভোটকুশলী সংস্থা ‘আই-প্যাক’ (I-PAC)। রবিবার বহরমপুরে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল এবং আই-প্যাকের বিরুদ্ধে একযোগে তোপ দাগলেন তিনি।
অধীরের বিস্ফোরক অভিযোগ: এদিন অধীর চৌধুরী স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে কংগ্রেসের যে প্রার্থীরা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন, তাঁদের কাছে আই-প্যাকের পক্ষ থেকে ফোন যাচ্ছে। অধীরের ভাষায়, “আই-প্যাক এখন এজেন্টের কাজ করছে। আমাদের সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থীদের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে যাতে তাঁরা নির্বাচনের পর শিবির পরিবর্তন করেন। তবে আমি স্পষ্ট বলে দিই, কংগ্রেসের সৈনিকরা বিক্রয়যোগ্য নয়।”
তৃণমূলকে নিশানা: অধীর চৌধুরী মনে করেন, তৃণমূল কংগ্রেস বুঝে গিয়েছে যে বেশ কিছু আসনে তারা হেরে যাচ্ছে। তাই পেশাদার সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে দল ভাঙানোর পুরনো খেলা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “তৃণমূল পরাজয়ের ভয়ে কাঁপছে। তাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করতে না পেরে এখন পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে।”
আই-প্যাক ও বাংলার রাজনীতি: উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আই-প্যাকের সক্রিয়তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। অধীরের এদিনের অভিযোগ সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিল। যদিও আই-প্যাক বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বহরমপুরের লড়াই: নিজে দাঁড়িয়ে থাকা কেন্দ্র বহরমপুর নিয়েও আত্মবিশ্বাসী শোনালেন অধীর। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল যত ষড়যন্ত্রই করুক না কেন, বহরমপুরের মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন এবং কোনো প্রলোভনেই পা দেবেন না।
এক নজরে অধীরের প্রধান দাবি:
কংগ্রেসের সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে আই-প্যাক।
দল ভাঙানোর লক্ষ্যেই ফোন করা হচ্ছে প্রার্থীদের।
“তৃণমূল ভয় পেয়েছে”, দাবি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির।





