ঘরের মাঠ ভবানীপুরে নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা চলাকালীন সংলগ্ন এলাকায় উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ এবং ‘ইচ্ছাকৃত বাধা’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের (ECI) দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
ঠিক কী ঘটেছিল? তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, আজ ভবানীপুরে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী সভা চলছিল, ঠিক সেই সময় সভার খুব কাছেই তীব্র শব্দে মাইক বাজানো শুরু হয়। এর ফলে বক্তার বক্তব্য শুনতে সমস্যা হয় এবং সভায় উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূলের দাবি, সভার অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বিপক্ষ রাজনৈতিক দল প্রচারের নামে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে যাতে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে।
কমিশনে তৃণমূলের নালিশ: তৃণমূলের পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির (Model Code of Conduct) চরম লঙ্ঘন। চিঠিতে বলা হয়েছে, “প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি হাই-প্রোফাইল সভার পাশে এভাবে মাইক বাজানো সম্ভব? এটি কেবল সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা নয়, বরং উস্কানি দিয়ে শান্তি বিঘ্নিত করার একটি অপপ্রয়াস।”
বিপক্ষ শিবিরের প্রতিক্রিয়া: যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিরোধী শিবির। তাদের পাল্টা দাবি, নির্বাচনী মরশুমে সব দলেরই প্রচার করার অধিকার রয়েছে। নিয়মানুগ ভাবেই প্রচার চালানো হচ্ছিল, একে সভা ভণ্ডুল বলা অবান্তর। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুর চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
কমিশনের পদক্ষেপ: অভিযোগ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। ওই সময়কার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এক নজরে তৃণমূলের মূল অভিযোগ:
মুখ্যমন্ত্রীর সভা চলাকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চস্বরে মাইক বাজানো।
প্রচারের কাজে বাধা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং দ্রুত শাস্তির দাবি।





