২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে চড়ছে রাজনীতির পারদ। এবার খাস কলকাতায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাটোয়ার নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করে অভিষেক সাফ জানালেন, “সৎ সাহস থাকলে ৪ তারিখ কলকাতায় থাকবেন।”
অমিত শাহকে বিশেষ চ্যালেঞ্জ
রাজ্যের ভোটগণনার দিন অর্থাৎ ৪ জুনকে (বা ৪ তারিখ) পাখির চোখ করে অভিষেক এদিন মেজাজি ভঙ্গিতে বলেন, দিল্লি থেকে এসে যাঁরা ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে দেব’ বলছেন, ৪ তারিখ বেলা ১২টার পর তাঁদের খোঁজ পাওয়া যাবে না। তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন—
“আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, জল বেশি করে খান। শরীর সুস্থ রাখুন, মাথা ঠান্ডা রাখুন। আর সৎ সাহস থাকলে ফলাফল বেরোনোর সময় কলকাতাতেই থাকবেন, পালিয়ে যাবেন না।”
তৃণমূলকেও কড়া বার্তা
এদিন শুধু বিরোধী পক্ষ নয়, দলের অন্দরেও কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো রকম গাফিলতি বা অন্তর্ঘাত বরদাস্ত করা হবে না। দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মানুষের পাশে থেকে কাজ করার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, মানুষের রায়ই শেষ কথা বলবে এবং তৃণমূল ফের একবার জনগনের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে।
গুজরাত বনাম বাংলা ইস্যু
অভিষেক তাঁর বক্তৃতায় ফের একবার ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব উসকে দিয়ে বলেন, গুজরাতের নেতারা এসে বাংলার মানুষকে ধমক দেবেন, এটা বাংলার মাটি সহ্য করবে না। তিনি বিজেপি নেতাদের আক্রমণ করে বলেন যে, ইডি-সিবিআই দিয়ে তৃণমূলকে আটকানো যাবে না। মানুষের পঞ্চায়েত আর মানুষের ভোটেই বিজেপি ধরাশায়ী হবে।
কেন ৪ তারিখ এত গুরুত্বপূর্ণ?
রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৪ তারিখের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আসলে তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে নিজের আত্মবিশ্বাসকেই প্রকাশ করেছেন। লোকসভা বা বিধানসভা—যেকোনো লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলের দিন বিজেপি নেতারা যাতে ময়দান ছেড়ে না পালান, সেই কটাক্ষই এদিন উঠে এসেছে তাঁর গলায়।
কাটোয়ার এই জনসভা থেকে অভিষেকের এই মারমুখী মেজাজ নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূলের পালে বাড়তি হাওয়া দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





