ভোট মিটলেও বাংলায় মিটছে না রাজনৈতিক হিংসা। মুর্শিদাবাদের মাটিতে এবার আক্রান্ত ৩ কংগ্রেস সমর্থক। আর এই ঘটনার খবর পেয়েই রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে কার্যত ‘অস্ত্র’ তুলে নেওয়ার নিদান দিয়ে নতুন করে বিতর্কের আগুন উসকে দিলেন তিনি।
কী ঘটেছিল?
সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী হিংসার বলি হয়েছেন মুর্শিদাবাদের ৩ কংগ্রেস কর্মী। অভিযোগের তির সরাসরি শাসক দল তৃণমূলের দিকে। আক্রান্তদের অভিযোগ, বিরোধীদের হয়ে কাজ করার অপরাধে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
“লাঠি-বল্লম নিয়ে তৈরি থাকুন”
আক্রান্ত কর্মীদের দেখতে গিয়ে মেজাজ হারান অধীর চৌধুরী। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সরাসরি সাধারণ মানুষকে আত্মরক্ষার পাঠ দেন তিনি। অধীর বলেন—
“ঘরে লাঠি, বল্লম, বঁটি যা আছে সব তৈরি রাখুন। কেউ আক্রমণ করতে এলে চুপ করে বসে থাকবেন না। আঘাত এলে প্রত্যাঘাত করতে হবে। নিজেদের রক্ষা করার অধিকার সবার আছে।”
শাসক দলকে কড়া হুঁশিয়ারি
অধীর চৌধুরী স্পষ্ট জানান যে, পুলিশ প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে এবং কংগ্রেস কর্মীদের ওপর অত্যাচার বন্ধ না হয়, তবে পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তৃণমূলের দলদাসে পরিণত হয়েছে, তাই আত্মরক্ষার জন্য সাধারণ মানুষকে হাতে আইন তুলে নেওয়ার মতো কঠোর কথা বলতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
অধীরের এই মন্তব্যের পর পালটা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল শিবির। তাদের দাবি, একজন অভিজ্ঞ সাংসদ ও বর্ষীয়ান নেতার মুখে এই ধরনের ‘অস্ত্র’ ধরার উসকানি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অগণতান্ত্রিক। অধীর চৌধুরী এলাকায় উত্তজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছে জোড়াফুল শিবির।
মুর্শিদাবাদের এই রক্তক্ষয়ী রাজনীতি এবং অধীরের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে এখন উত্তাল গোটা রাজ্য।





