ভবানীপুরের উপনির্বাচনের প্রচারকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক উত্তেজনা। প্রচারের শেষ লগ্নে মাইক ও স্লোগান নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপি শিবিরের মধ্যে যে সংঘাত তৈরি হলো, তা এক বেনজির পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষোভে জনসভার মঞ্চ পর্যন্ত ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত:
বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যখন ভবানীপুরে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চালাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর সভার কাছে তৃণমূল সমর্থকরা উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। পাল্টা তৃণমূলের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা চলাকালীন বিজেপির তরফে অত্যন্ত উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে বিঘ্ন ঘটানো হয়েছে।
ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চত্যাগ:
ভবানীপুরে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে ভাষণ দিচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেই সময় পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বিজেপির প্রচারের মাইক এত জোরে বাজানো শুরু হয় যে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি হয়। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও শব্দের দাপট না কমায় মেজাজ হারান মমতা। তিনি প্রকাশ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদ জানিয়ে মাঝপথেই ভাষণ থামিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি বিজেপির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
পাল্টা অভিযোগ বিজেপির:
অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার করছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের কর্মীরা তাঁদের মিছিলে ঢুকে উসকানিমূলক স্লোগান দেয় এবং মাইক বাজিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ‘মাইক সংঘাত’ ঘিরে ভবানীপুর জুড়ে এখন তীব্র উত্তেজনা। দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘটনা যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





