বিজেপি কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, শাসকদলের সাফাইয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

ভোট যত এগিয়ে আসছে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা। শনিবার রাতে গোসাবা ব্লকের কোচুখালি নম্বর ১ এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত কর্মীর নাম সনাতন গায়েন। বর্তমানে তিনি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

হামলার নেপথ্যে কি দলবদল?

স্থানীয় সূত্রে খবর, সনাতন গায়েন একসময় তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এলাকার বেশ কিছু নেতার সঙ্গে তিনিও ঘাসফুল শিবির ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। পরিবারের দাবি, দলবদল করার পর থেকেই তাঁকে লাগাতার হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছিল। শনিবার রাতে তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সনাতনের মাথায় ও হাতে গুরুতর চোট লেগেছে।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সনাতন গায়েন সরাসরি এলাকার তিন তৃণমূল কর্মী— স্বপন মণ্ডল, সুধীর মণ্ডল এবং স্বদেশ মণ্ডলের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, “তৃণমূলে থাকার সময় কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু বিজেপিতে আসতেই আমাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হল।” যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে একটি জমি সংক্রান্ত বিবাদ আগে থেকেই ছিল, তবে হামলার মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয়কেই দায়ী করছেন তিনি।

শাসকদলের সাফাই: “সম্পূর্ণ পারিবারিক বিবাদ”

বিজেপির এই অভিযোগকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি:

  • এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগসূত্র নেই।

  • এটি সম্পূর্ণ একটি ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিবাদের ফল।

  • বিজেপি অযথা ব্যক্তিগত অশান্তিকে রাজনৈতিক রং দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।

পুলিশি তদন্ত ও উত্তেজনা

ঘটনার পর থেকেই কোচুখালি এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। গোসাবা থানায় ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভোটের প্রাক্কালে এই হামলাকে কেন্দ্র করে গোসাবায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy