প্রথম দফার ভোট মিটেছে ছোটখাটো কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া। এবার লক্ষ্য ২৯ এপ্রিলের মেগা ফাইট— দ্বিতীয় দফা। কলকাতা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানের মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। তবে এই দফার হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে কড়া হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বুথের ভেতর সামান্যতম বিশৃঙ্খলা হলেও তার দায় নিতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেই।
বুথের নিরাপত্তা: CAPF-এর কাঁধে গুরুভার
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যত নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট করেছেন:
বুথের ১০০ মিটারের গণ্ডি বা ‘লক্ষ্মণরেখা’র ভেতর নিরাপত্তা পুরোপুরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে।
ভোটার ছাড়া অন্য কেউ ভেতরে ঢুকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমনকি কোনো মেকানিক বা জল সরবরাহকারীকে ভেতরে যেতে হলেও রিটার্নিং অফিসারের (RO) আইকার্ড থাকা বাধ্যতামূলক।
আগরওয়ালের কথায়, “ইভিএম থেকে পোলিং মেশিন, সবকিছুর নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন থেকে সিএপিএফ (CAPF)-এর।”
নিরাপত্তার ‘ব্লু-প্রিন্ট’: কোথায় কত বাহিনী?
দ্বিতীয় দফায় মোট ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। যার মধ্যে খাস কলকাতার নিরাপত্তাতেই থাকছে সর্বোচ্চ ২৭৩ কোম্পানি। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর চিত্র একনজরে:
পূর্ব বর্ধমান: ২৬০ কোম্পানি।
ব্যারাকপুর কমিশনারেট: ১৬০ কোম্পানি।
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা: ১৫৮ কোম্পানি।
ডায়মন্ড হারবার: ১৩৫ কোম্পানি।
বারাসাত ও হাওড়া: যথাক্রমে ১১২ ও ১১০ কোম্পানি।
অতীতের রেকর্ড মাথায় রেখে সতর্ক কমিশন
যে ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট হতে চলেছে, তার মধ্যে অনেক এলাকাতেই অতীতে রাজনৈতিক অশান্তির রেকর্ড রয়েছে। সেই ইতিহাস মাথায় রেখেই এলাকা ভিত্তিক বিশেষ ‘সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’ বা নিরাপত্তা কৌশল সাজিয়েছে কমিশন। বেছে বেছে স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে কমিশনের আধিকারিকরা নিজেরাই পরিদর্শনে যাচ্ছেন।
সম্পাদকীয় কলম: দ্বিতীয় দফার এই ভোটই কার্যত ঠিক করে দেবে নবান্নের দখল কার হাতে যাচ্ছে। তাই একদিকে যেমন রাজনৈতিক নেতাদের বাগযুদ্ধ তুঙ্গে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশ দেওয়াই এখন কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।




