দেশের নারী নিরাপত্তার মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের স্থান এখন চরম উদ্বেগের। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের নিরিখে দেশের শীর্ষ চার রাজ্যের মধ্যে ঢুকে পড়েছে বাংলা। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৮ শতাংশ মহিলা হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সুরক্ষা এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে।
বৈপরীত্য: কলকাতা বনাম জেলা
পরিসংখ্যানের সবথেকে বড় বৈপরীত্য ধরা পড়েছে কলকাতা ও বাকি রাজ্যের মধ্যে। তিলোত্তমার ছবিটা কিছুটা স্বস্তির— দেশের প্রধান মহানগরগুলোর মধ্যে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধে দণ্ডদানের হার কলকাতাতেই সবথেকে বেশি। কিন্তু জেলাগুলোতে চিত্রটা ঠিক উল্টো। রাজ্যজুড়ে গড় দণ্ডদানের হার দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন, যা বিচারব্যবস্থা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ভয়ের আবহ: বাইক গ্যাং থেকে সাইবার বিপদ
শহর ও শহরতলিতে নতুন আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেপরোয়া ‘বাইক গ্যাং’। হেলমেটহীন, তীব্র গতির বাইকচালকদের দাপটে মহিলারা রাস্তায় বেরোতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অটোচালকদের একাংশের দুর্ব্যবহার।
অন্যদিকে, অপরাধের ধরণ বদলেছে সাইবার জগতেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় কটূক্তি, ব্ল্যাকমেল কিংবা ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির মতো ঘটনা প্রতিদিন বাড়ছে। সামাজিক লজ্জা ও আইনি জটিলতার ভয়ে অনেক ক্ষেত্রেই এই অপরাধগুলো অন্ধকারের আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
শাস্তির হার মাত্র ৩.৭%!
বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বাংলায় দণ্ডদানের করুণ হার। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলায় এই হার মাত্র ৩.৭ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০০টি মামলার মধ্যে গড়ে মাত্র ৪টি ক্ষেত্রে অপরাধীরা সাজা পায়। প্রমাণের অভাব, তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্ধকারেও আলোর রেখা: কিছু ইতিবাচক দিকও নজর কেড়েছে। রাস্তার আলো বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি নজরদারির ফলে শহরের বেশ কিছু এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে নারী পাচার ও সাইবার অপরাধ রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছে সব মহল থেকে।
ভোটের ইস্যু কি ‘নারী সুরক্ষা’?
সামনে নির্বাচন, আর তার আগেই এই রিপোর্ট রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মহিলাদের বড় অংশের ভোট কোন দিকে যাবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির ওপর।





