প্রথম দফার ভোট মিটতেই উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। এবার খবরের শিরোনামে সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। শনিবার ভোর ৪টে নাগাদ জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের ইভিএম স্ট্রংরুমের সামনে গিয়ে ব্যাপক হাঙ্গামা করার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের গালিগালাজ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বচসা— সব মিলিয়ে শেষ রাতে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলেজ চত্বর।
ঠিক কী ঘটেছিল?
জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে ফারাক্কা, শামশেরগঞ্জ, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, জঙ্গিপুর এবং সাগরদিঘি— এই ছয় বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে। বায়রন বিশ্বাসের অভিযোগ, রাত ১০টা নাগাদ তিনি স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন ভেতরে সিসিটিভি থাকলেও বাইরে তা দেখার কোনও স্ক্রিন নেই। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্ক্রিন বসানো হলেও তাঁর দাবি, রাত ১২টা এবং ১টার দিকে দফায় দফায় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
ভোর ৪টের তুলকালাম
ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় ভোর ৪টে নাগাদ ফের সপার্ষদ ক্যাম্পাসে হাজির হন বায়রন। তিনি জোর করে স্ট্রংরুমের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। কিন্তু নির্বাচনী বিধি মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ তাঁকে বাধা দিলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগের তির: গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই বায়রন বিশ্বাস রাজ্য পুলিশকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ করেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে থাকা অনুগামীরাও দীর্ঘক্ষণ হট্টগোল চালান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিরাপত্তার কড়াকড়ি আরও বাড়িয়ে দেয় মোতায়েন থাকা বাহিনী।
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
ভোট মিটতে না মিটতেই ইভিএম নিরাপত্তা নিয়ে প্রার্থীর এই মারমুখী আচরণ ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধী শিবির বিষয়টিকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করলেও, বায়রন বিশ্বাসের সাফ কথা— সিসিটিভি বন্ধ হওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক এবং তিনি কেবল ইভিএমের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন।





