গরমে নাজেহাল জনজীবন, দিনে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই! পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে কী জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ?

কাঠফাটা রোদে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে লোডশেডিং। শহর থেকে গ্রাম—বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। কেন এই পরিস্থিতি আর কবেই বা মিটবে এই ভোগান্তি? এই নিয়ে মুখ খুললেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

পরিস্থিতি ঠিক হতে কতদিন? বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ আপাতত অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। তবে আশার কথা হলো, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো মেরামতের কাজ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ চিত্র: বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে চাহিদার তুলনায় উৎপাদনের ঘাটতি ছিল প্রায় ২০০০ মেগাওয়াটের বেশি।

  • রাজধানী ঢাকা: প্রতিদিন অন্তত ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • চট্টগ্রাম ও জেলা শহর: দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

  • গ্রামাঞ্চল: অধিকাংশ এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

কেন এই সংকট? মূলত তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে একাধিক বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কারিগরি বিভ্রাট। পিজিসিবি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার ১৬ হাজার ৬৪৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট।

যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নেত্রকোনা—সর্বত্রই একই হাহাকার। এসএসসি পরীক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আপাতত বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমার দিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy