আধুনিক জীবনযাত্রায় ইঁদুর দৌড় আর কাজের চাপে আমাদের শরীর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক ছন্দ। কিন্তু তার প্রভাব যে এতটা গভীরে যেতে পারে, তা ভাবেননি অনেকেই। সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণায় এক ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে— মানসিক চাপ বা স্ট্রেস সরাসরি প্রভাব ফেলছে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চিকিৎসকরা একে ‘নিঃশব্দ মহামারি’ বলে চিহ্নিত করছেন।
কেন বাড়ছে এই সমস্যা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি সরাসরি পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এর ফলে:
শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস (Low Sperm Count): অত্যধিক উদ্বেগের কারণে স্পার্ম কাউন্ট আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
মানসিক অবসাদ: কেবল শারীরিক নয়, মানসিক অনীহাও বাবা হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর: স্ট্রেসের কারণে অনিদ্রা, অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপানের প্রবণতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ
শহরের বিশিষ্ট ফার্টিলিটি স্পেশালিস্টদের মতে, বর্তমানে ক্লিনিকে আসা পুরুষদের প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ বন্ধ্যাত্বের মূল কারণ কোনো শারীরিক ত্রুটি নয়, বরং মানসিক চাপ। ল্যাপটপের সামনে দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং টার্গেট পূরণের দুশ্চিন্তা সরাসরি স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা শুক্রাণুর গুণমান নষ্ট করে দিচ্ছে।
মুক্তির উপায় কী?
চিকিৎসকরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন: ১. পর্যাপ্ত ঘুম: দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ২. ডিজিটাল ডিটক্স: বাড়ি ফিরে ল্যাপটপ বা মোবাইল থেকে দূরে থেকে পরিবারের সঙ্গে গুণমান সম্পন্ন সময় কাটান। ৩. শরীরচর্চা: হালকা যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম মানসিক চাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। ৪. ডায়েট: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রচুর জল পান করা জরুরি।





