আর মাত্র কয়েক প্রহর, তারপরেই বঙ্গে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। গণতন্ত্রের এই উৎসবের প্রাক্কালে শহরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন লালবাজারের কাছে অ্যাসিড টেস্ট। কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে খাস কলকাতা ও শহরতলিকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলল পুলিশ প্রশাসন।
মাঠে নামছেন খোদ আইপিএস আধিকারিকরা! সবচেয়ে চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাতের নজরদারি নিয়ে। সাধারণত রাতের নাকা তল্লাশিতে নিচুতলার পুলিশকর্মীদের ভিড় দেখা গেলেও, এবার সরাসরি তদারকি করবেন আইপিএস র্যাঙ্কের আধিকারিকরা। লালবাজার সূত্রে খবর, শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ও সংযোগস্থলে প্রতি রাতে অন্তত দু’জন আইপিএস অফিসার মোতায়েন থাকবেন। উদ্দেশ্য একটাই— ডিউটিতে বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
শহরের অলিতে-গলিতে ড্রোন ও সিসিটিভি নজরদারি শুধু রাজপথ নয়, অলিগলিতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। প্রস্তুত রাখা হয়েছে:
ব়্যাফ (RAF) ও কুইক রেসপন্স টিম (QRT)
স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ও বিশেষ বাহিনী
২৪ ঘণ্টা সক্রিয় সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম
কড়া নজর তল্লাশিতে: ভোটের আগে শহরে বেআইনি অস্ত্র, কালো টাকা বা মাদকের প্রবেশ রুখতে সন্দেহভাজন প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে। বহিরাগতদের গতিবিধির ওপর রাখা হচ্ছে কড়া নজর। প্রয়োজনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘তৃতীয় নয়ন’: নির্বাচনের আবহে যাতে কোনওভাবেই গুজব বা উস্কানিমূলক পোস্ট না ছড়ায়, তার জন্য কাজ করছে পুলিশের সাইবার সেল। ভুল খবর বা ‘ফেক নিউজ’ ছড়ানোর চেষ্টা করলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়েছে প্রশাসন।
“শহরকে শান্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।” — লালবাজারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
ভোটের ডঙ্কা বাজার আগেই কলকাতা এখন কার্যত দুর্গ। এখন দেখার, লালবাজারের এই ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা’র বেষ্টনী ভোটপর্বকে কতটা শান্তিপূর্ণ রাখতে পারে।





