রাতে নেই রেহাই, দিনে আগুনের হলকা! রাজস্থান-হরিয়ানায় ‘উষ্ণ রাত’-এর অস্বস্তি, কী বলছে আইএমডি?

দেশের আবহাওয়ায় এখন এক বিচিত্র ও চরমভাবাপন্ন রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। একদিকে যখন আগুনের হলকায় পুড়ছে সমতল, ঠিক তখনই দেশের অন্য প্রান্ত তছনছ হয়ে যাচ্ছে বিধ্বংসী কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে। শুক্রবার ওড়িশার ঝাড়সুগুডায় পারদ পৌঁছেছে ৪৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ছিল সমগ্র দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক; কাঠফাটা রোদ আর তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত।
কেবল দিনের বেলা নয়, সূর্যাস্তের পরেও মিলছে না রেহাই। হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানে শুরু হয়েছে ‘ওয়ার্ম নাইট’ বা উষ্ণ রাতের দাপট। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি থাকায় রাতেও চরম অস্বস্তিতে ভুগছেন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়াবিদদের মতে, লু-এর এই দাপট থেকে আপাতত নিষ্কৃতির কোনো সম্ভাবনা নেই।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখা যাচ্ছে উত্তর-পূর্ব ও মধ্য ভারতে। অসম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মধ্যপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঝড়ের গতিবেগ কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যার ফলে উপড়ে গিয়েছে বহু গাছ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। অসম ও মধ্য মহারাষ্ট্রে শিলাবৃষ্টির জেরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ভারতীয় মৌসম ভবন (IMD) জানিয়েছে, দেশের এই দ্বিমুখী আবহাওয়া—অর্থাৎ সমতলে তাপপ্রবাহ এবং পাহাড়ি ও প্রান্তিক এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি—আগামী কয়েক দিন এভাবেই বজায় থাকবে।