লোকসভা নির্বাচনের আবহে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এবার দ্বিমুখী আক্রমণে নামল কংগ্রেস। একদিকে মহিলা সংরক্ষণ বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) দ্রুত কার্যকরের দাবিতে দেশজুড়ে ‘পোস্টকার্ড অভিযান’ এবং অন্যদিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা—এই দুই সাঁড়াশি চাপে এখন ব্যাকফুটে বিজেপি।
সুপ্রিম কোর্টে মোদির বিরুদ্ধে মামলা: নির্বাচনী প্রচারের মধ্যে দূরদর্শনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ টিএন প্রতাপানের অভিযোগ, জনগণের টাকায় চলা সরকারি চ্যানেল ব্যবহার করে ভোটের সময় বিরোধীদের নিশানা করা স্পষ্টত আদর্শ আচরণবিধি (MCC) ও জন প্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপন্থী। নির্বাচন কমিশনে কাজ না হওয়ায় এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস।
১০ লাখ পোস্টকার্ডে ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা: বুধবার এআইসিসি দপ্তরে এক সাংবাদিক বৈঠকে মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী অলকা লাম্বা জানান, আগামী ২ মাস ধরে দেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহর থেকে ১০ লাখ মহিলা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে পোস্টকার্ড পাঠাবেন। তাঁদের দাবি:
২০২৫ নয়, বর্তমান ৫৪৩টি আসনের ওপর ভিত্তি করেই অবিলম্বে ৩৩% মহিলা সংরক্ষণ চালু করতে হবে।
ওবিসি (OBC) মহিলাদের এই সংরক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
আসন্ন বাদল অধিবেশনে বিশেষ প্রস্তাব এনে এই দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিজেপির ‘মুখোশ’ খোলার ডাক: বিজেপির ‘নারী শক্তি’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম মনে করিয়ে দেন অতীতে সোনিয়া গান্ধীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যগুলো। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে মহিলাদের সম্মান দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে কর্ণাটকে ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রজ্জ্বল রেবন্নার হয়ে ভোট প্রচার করছেন প্রধানমন্ত্রী। বিলকিস বানো থেকে হাতরস—বিজেপি অপরাধীদেরই সুরক্ষা দেয় বলে তোপ দেগেছেন কংগ্রেস নেতারা।
রাজনৈতিক মহলের নজর: ভোটের মুখে কংগ্রেসের এই ‘পোস্টকার্ড কূটনীতি’ এবং সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলা পদ্ম শিবিরের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের সেন্টিমেন্ট নিজের দিকে টানতে মরিয়া দুই পক্ষই।





