রাত পোহালেই উত্তরবঙ্গের ভাগ্যপরীক্ষা। প্রথম দফার নির্বাচনের আগে গোটা উত্তরবঙ্গকে একপ্রকার দুর্গে পরিণত করল প্রশাসন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে রেকর্ড সংখ্যক ৭৮৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র শিলিগুড়ি শহরের নিরাপত্তারক্ষায় নামানো হয়েছে ৪৫ কোম্পানি আধা-সেনা।
নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট: উত্তরবঙ্গের অতিরিক্ত মহানির্দেশক (ADG) কে জয়রামণ আজ শিলিগুড়িতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রস্তুতির কোনও খামতি রাখা হয়নি। মোতায়েন করা বাহিনীর ৯০ শতাংশ সরাসরি নির্বাচনী ডিউটিতে অর্থাৎ বুথে এবং ভোটারদের নিরাপত্তায় থাকবে। বাকি ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে নিয়মিত থানার কাজ ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষায়।
অশান্তি দমনে ‘কিউআরটি’ দাওয়াই: ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া বা অন্য কোনও ইস্যুতে বিক্ষোভের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। আর সেই কারণেই তুরুপের তাস হিসেবে রাখা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম (QRT)। পুলিশ সূত্রের খবর:
প্রতিটি থানায় মোতায়েন থাকবে বিশেষ অতিরিক্ত কিউআরটি।
বিক্ষোভের খবর পাওয়ামাত্রই কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে বাহিনী।
সিসিটিভি এবং ড্রোনের মাধ্যমে চলবে কড়া নজরদারি।
ভয় দেখালেই জেল! এডিজি কে জয়রামণ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভোটারদের প্রভাবিত করা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না। তাঁর কথায়,
“আমরা নিশ্চিত করব যাতে কেউ বেআইনি কাজ করতে না পারে। ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা হলে সরাসরি কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ: টহলদারি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুট ওড়ানোর শব্দে স্থানীয়দের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা ও প্রবীণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন, তার জন্য বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কড়া ঘেরাটোপ তৈরি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের ভোটযুদ্ধ এবার কতটা রক্তপাতহীন হয়, এখন সেটাই দেখার। প্রশাসন তৈরি, এবার পালা সাধারণ মানুষের।





