অপেক্ষার প্রহর শেষ। পশ্চিমবঙ্গের মসনদ কার দখলে থাকবে, তা নির্ধারণের ‘মহাযুদ্ধ’ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফাতেই নির্ধারিত হবে শাসক-বিরোধী দু’পক্ষের একাধিক মহীরুহের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে একযোগে শুরু হতে চলেছে এই অগ্নিপরীক্ষা।
হেভিওয়েটদের ‘কুরুক্ষেত্র’: নজরে যে কেন্দ্রগুলো
প্রথম দফার ভোটে সবথেকে বেশি লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছে নন্দীগ্রাম। গত নির্বাচনের স্মৃতি উসকে দিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আবারও এই কেন্দ্রে অগ্নিপরীক্ষায়। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের তুরুপের তাস পবিত্র কর। লড়াই সমানে-সমানে কোচবিহারে ও দিনহাটায়। একদিকে নিশীথ প্রামাণিক, অন্যদিকে তৃণমূলের দাপুটে নেতা উদয়ন গুহ। আসানসোলে বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল ও তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বৈরথ নিয়েও পারদ চড়ছে। খড়গপুর সদরে লড়াইয়ে আছেন বিজেপির পোড়খাওয়া নেতা দিলীপ ঘোষ।
চা-শ্রমিক ও রাজবংশী ভোট: তুরুপের তাস
উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে এক বিরাট অংশ জুড়ে আছে চা-বলয় এবং রাজবংশী ভোটাররা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াইতে মূল ফ্যাক্টর হতে চলেছে:
উন্নয়ন বনাম বঞ্চনা: রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘চা-সুন্দরী’ প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে বিজেপি সামনে এনেছে কেন্দ্রীয় স্কিমগুলো।
উত্তরবঙ্গের পাল্লা: ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলে যে দল আধিপত্য বজায় রাখবে, নবান্নের লড়াইয়ে তারাই কয়েক কদম এগিয়ে থাকবে।
বুথে বুথে ‘দুর্গ’ গড়ছে কমিশন
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ১৫২টি আসনকে:
কেন্দ্রীয় বাহিনী: মোতায়েন থাকছে রেকর্ড ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
প্রযুক্তিগত নজরদারি: প্রতিটি বুথে থাকছে ওয়েবকাস্টিং। এছাড়া ড্রোনের মাধ্যমে চলবে কড়া পাহারা।
কুইক রেসপন্স টিম: যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামলাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে QRT-কে।
শেষ কথা: পাল্লা কার ভারী?
প্রচার পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর ‘পরিবর্তনের ডাক’ বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জবাব’— দুই তরফই ময়দান কাঁপিয়েছে। জনজোয়ার কার দিকে বয়, তা বোঝা যাবে আগামী ৪ মে ফলাফল প্রকাশের দিনে। তবে আগামিকালের ১৫২টি আসনের ফলাফলই হবে বাংলার পরবর্তী সরকার গড়ার মূল ‘ব্লু-প্রিন্ট’।





