প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে কর্ণাটকের রায়চুরে। ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র দাবদাহে রীতিমতো পুড়ছে সাধারণ মানুষ। আর এই আগুনের হলকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরা। খবর পাওয়া গেছে, রায়চুর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে (RIMS) তীব্র জ্বর ও ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৭ জন সদ্যোজাত। এর মধ্যে এমন শিশুও রয়েছে যাদের পৃথিবীতে আসার বয়স মাত্র ১ দিন!
হাসপাতালে শিশুদের দীর্ঘ সারি, উদ্বেগে চিকিৎসকরা
তীব্র গরমে রায়চুরের অবস্থা এখন শোচনীয়। দিনের বেলা তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, এমনকি রাতেও স্বস্তি নেই। ২৬ থেকে ২৯ ডিগ্রির নিচে নামছে না পারদ। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ছে। রায়চুর হাসপাতালের মেডিক্যাল টিম ২৪ ঘণ্টা শিশুদের পর্যবেক্ষণে রাখছেন। চিকিৎসকদের মতে, গরমে শরীর থেকে দ্রুত জল বেরিয়ে যাচ্ছে, যা নবজাতকদের ছোট শরীরে মারাত্মক ঘাটতি তৈরি করছে।
সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা: বিপদের রেড জোন
চিকিৎসকরা একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন। তাদের মতে:
“দিনের সবথেকে ক্ষতিকর সময় হল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। এই সময়ে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। শিশুদের শরীর এই প্রচণ্ড তাপ সইতে না পেরে জলশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ছে।”
মায়েদের জন্য জরুরি পরামর্শ
শিশুদের শরীরে জলের অভাব শুধু ডিহাইড্রেশন নয়, ডেকে আনতে পারে মারাত্মক জন্ডিসও। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে ডাক্তাররা মায়েদের উদ্দেশ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন:
নিয়মিত স্তন্যপান: নবজাতকের শরীরে জলের ঘাটতি মেটানোর একমাত্র উপায় হলো নিয়মিত ও সঠিকভাবে স্তন্যপান করানো।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: শিশুকে সরাসরি রোদে বা অতিরিক্ত গরম জায়গায় রাখা যাবে না।
লক্ষণ খেয়াল রাখা: শিশুর প্রস্রাব কমে গেলে বা শরীর অতিরিক্ত গরম হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পুরো কর্ণাটকই যেন আগুনের গোল্লা
শুধু রায়চুর নয়, কর্ণাটকের বিস্তীর্ণ এলাকায় গত দু’দিনে পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এমনকি বাগান শহর হিসেবে পরিচিত বেঙ্গালুরুতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেশি। তীব্র দাবদাহের কারণে রাজ্যের কোথাও আপাতত স্বস্তির খবর নেই।





