শরীর সচেতন বাঙালির খাবারের পাতে এখন ব্রাত্য ডিমের কুসুম। জিম-প্রেমী তরুণ থেকে শুরু করে হার্টের রোগী— সবার মধ্যেই একটা ধারণা বদ্ধমূল যে, কুসুম খেলেই রক্তে কোলেস্টেরল বাড়বে আর হার্টের বারোটা বাজবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসকদের মত বলছে উল্টো কথা। আপনি কি কুসুম বাদ দিয়ে নিজের অজান্তেই শরীরের বড় ক্ষতি করছেন? জেনে নিন আসল সত্য।
কুসুম বনাম কোলেস্টেরল: আসল লড়াইটা কোথায়?
অনেকেই ভাবেন ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল সরাসরি হার্টে গিয়ে ব্লক তৈরি করে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ডিমের কুসুমে থাকে ‘ডায়েটারি কোলেস্টেরল’, যা রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রায় খুব একটা প্রভাব ফেলে না। আমাদের শরীরের লিভার নিজেই কোলেস্টেরল তৈরি করে। আপনি যখন বাইরে থেকে কুসুমের মাধ্যমে কোলেস্টেরল গ্রহণ করেন, লিভার তখন নিজের উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে।
পুষ্টির আধার: কুসুম কেন খাবেন?
কুসুম বাদ দেওয়া মানে আসলে পুষ্টির খনিটিকেই ডাস্টবিনে ফেলা। এতে এমন কিছু উপাদান থাকে যা সাদা অংশে নেই:
কোলিন: যা মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং লিভারের মেটাবলিজমে সাহায্য করে।
লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন: যা বার্ধক্যজনিত চোখের সমস্যা থেকে আপনাকে রক্ষা করবে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: এটি রক্তনালীর প্রদাহ কমিয়ে উল্টো হার্টকে সুরক্ষিত রাখে।
ভিটামিন ডি ও বি১২: হাড়ের গঠন এবং স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য যা অপরিহার্য।
সাবধানতা কাদের জন্য?
সবাই কি নির্বিচারে কুসুম খেতে পারবেন? না, কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ জরুরি:
যাদের বংশগতভাবে উচ্চ কোলেস্টেরল (Familial Hypercholesterolemia), টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা ইতিপূর্বে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। তাদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৩-৪টি কুসুম খাওয়া নিরাপদ।
কিভাবে খেলে হার্ট থাকবে ফিট?
ডিম হার্টের ক্ষতি করে না, ক্ষতি করে আপনার রান্নার পদ্ধতি। ঘি, মাখন বা অতিরিক্ত রিফাইন তেলে কড়া করে ভাজা ডিম খেলে শরীরে ট্রান্স ফ্যাট প্রবেশ করে, যা মারাত্মক ক্ষতিকর।
সেরা উপায়: ডিম সেদ্ধ (Boiled), পোচ (Poached) বা সামান্য অলিভ অয়েলে স্ক্র্যাম্বল করে খান।
সাথী হিসেবে কী নেবেন: সাদা পাউরুটি বা প্রসেসড মাংসের বদলে সবজি, ওটস বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের সাথে ডিম খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।





