আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। রাত পোহালেই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মেগা লড়াই শুরু। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় রাজ্যের মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং থেকে শুরু করে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে এদিন ভোট হবে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রথম দফার এই নির্বাচনই কার্যত বলে দেবে নবান্নের দখল শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে।
এক নজরে লড়াইয়ের ময়দান:
প্রথম দফার এই নির্বাচনে মোট ৫৫টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৃণমূল, বিজেপি, বাম-কংগ্রেস এবং আইএসএফ-এর মতো পরিচিত দলগুলির পাশাপাশি এবার ময়দানে রয়েছে একঝাঁক ছোট এবং আঞ্চলিক দল। উত্তরবঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা এবং কামতাপুরি পিপলস পার্টির (ইউনাইটেড) প্রভাব যেমন নির্ণায়ক হতে পারে, তেমনই জঙ্গলমহলে গন্ডোয়ানা প্রজাতন্ত্র পার্টি ও আম্বেদকরাইট পার্টির মতো শক্তিগুলিও বেশ প্রাসঙ্গিক। মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের নিরিখে মিম (AIMIM) এবং পীরজাদা রুহুল আমিনের জাতীয় উন্নয়ন পার্টি (JUP) কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বড় দলগুলির।
কে কত আসনে লড়ছে:
তৃণমূল কংগ্রেস ১৫২টি আসনের মধ্যে ১৪৯টিতে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি ৩টি পাহাড়ি আসনে তারা অনীত থাপার গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি ও কংগ্রেস সমস্ত আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কামতাপুরি পিপলস পার্টি ১২টি আসনে এবং আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম ৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়াও গন্ডোয়ানা প্রজাতন্ত্র পার্টি ৫টি এবং উত্তরবঙ্গ পিপলস পার্টি ৫টি আসনে লড়ছে।
প্রার্থীর সংখ্যা ও ভোট পরিসংখ্যান:
প্রথম দফায় মোট ১৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। সবথেকে বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে কোচবিহার দক্ষিণ এবং উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার কেন্দ্রে, যেখানে প্রার্থীর সংখ্যা ১৫ জন করে। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের এসসি সংরক্ষিত চন্দ্রকোনা আসনে লড়াই সবথেকে কম, সেখানে প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৫ জন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় এই দফায় নির্বাচন সম্পন্ন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের কাছে।





