তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের একটি মন্তব্য ঘিরে রণক্ষেত্র তৈরি হয়েছে রাজনীতির ময়দানে। চেন্নাইয়ের প্রচার সভা থেকে বিজেপি এবং এআইএডিএমকে-কে আক্রমণ করতে গিয়ে খাড়গে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেন, যা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে গেরুয়া শিবির।
বিতর্কের সূত্রপাত কী নিয়ে?
তামিলনাড়ুর কিংবদন্তি জননেতা সি এন আন্নদুরাইয়ের (Annadurai) আদর্শ নিয়ে কথা বলছিলেন খাড়গে। তিনি অভিযোগ করেন, এআইএডিএমকে আন্নদুরাইয়ের ছবি ব্যবহার করে অথচ তাঁর আদর্শের পরিপন্থী মোদীর সঙ্গে হাত মেলায়। এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, “যাঁরা আন্নদুরাইয়ের ছবি ব্যবহার করেন, তাঁরা কীভাবে মোদীর মতো একজন ‘টেররিস্ট’-এর (সন্ত্রাসবাদী) সঙ্গে যোগ দিতে পারেন, যিনি সাম্য ও বিচারে বিশ্বাস করেন না?”
খাড়গের সাফাই: “আমি মোদীকে নয়, তাঁর আচরণকে বলেছি”
বিজেপি এবং এআইএডিএমকে-র পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে দ্রুত নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন খাড়গে। তিনি দাবি করেন, তিনি মোদীকে ব্যক্তিগতভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলতে চাননি। তাঁর কথায়, “মোদী বিরোধীদের ভয় দেখাচ্ছেন (Terrorising)। ইডি, সিবিআই ব্যবহার করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সন্ত্রস্ত করে রাখছেন। আমি সেই অর্থেই শব্দটি ব্যবহার করেছি।”
বিজেপির পাল্টা তোপ
বিজেপি নেতৃত্ব এই মন্তব্যকে ‘হতাশা’ বলে বর্ণনা করেছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, তামিলনাড়ুতে পায়ের তলায় মাটি নেই জেনেই কংগ্রেস সভাপতি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। এআইএডিএমকে-ও পাল্টা জানিয়ে দিয়েছে, আন্নদুরাইয়ের উত্তরসূরি হিসেবে কার সঙ্গে জোট হবে, তা বলার অধিকার কংগ্রেসের নেই।
ভোটের মুখে ‘তামিল সেন্টিমেন্ট’
দক্ষিণের রাজনীতিতে সি এন আন্নদুরাই অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় নাম। কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্য এবং আন্নদুরাইয়ের নাম জড়িয়ে মোদীকে আক্রমণ করাকে বিজেপি ‘তামিল সংস্কৃতির অবমাননা’ হিসেবে প্রচার করছে। ২৩ এপ্রিল ভোটের আগে এই বিতর্ক যে জনমতের ওপর প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।





