বিহারের পূর্ণিয়ার স্বতন্ত্র সাংসদ পাপ্পু যাদব নারী নেত্রীদের উত্থান নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত ও অবমাননাকর মন্তব্য করে আইনি বিপাকে পড়েছেন। লোকসভায় ১৩১তম সংবিধান (সংশোধনী) বিল বা মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ার প্রেক্ষাপটে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন যে, “ভারতবর্ষে ৯০ শতাংশ মহিলা কোনো না কোনো নেতার বেডরুমে না গিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশই করতে পারেন না।”
কী বলেছিলেন পাপ্পু যাদব?
একটি প্রচার সভায় বা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে (ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল) পাপ্পু যাদব বলেন, “আমেরিকা থেকে ভারত— সব জায়গার নেতারাই লোলুপ দৃষ্টিতে নারীদের দেখেন। সিস্টেমটাই এমন যে, কোনো প্রভাবশালী নেতার ঘরে না ঢুকে নারীরা উচ্চপদে আসীন হতে পারেন না।” তাঁর এই মন্তব্যের লক্ষ্য ছিল মূলত নারী শক্তির অবমাননা, যা রাজনৈতিক মহলে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে।
মহিলা কমিশনের কড়া পদক্ষেপ
পাপ্পু যাদবের এই মন্তব্যের খবর পৌঁছাতেই স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিয়েছে বিহার রাজ্য মহিলা কমিশন।
তিন দিনের মধ্যে জবাব তলব: কমিশনের চেয়ারপার্সন অপ্সরা জানান, পাপ্পু যাদবকে তিন দিনের মধ্যে তাঁর বক্তব্যের স্পষ্টীকরণ দিতে হবে।
সদস্যপদ বাতিলের সুপারিশ: কমিশন জানিয়েছে, কেন তাঁর লোকসভার সদস্যপদ বাতিলের জন্য স্পিকারের কাছে সুপারিশ করা হবে না, তার কারণ দর্শাতে হবে।
রাজনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড়
বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা এই মন্তব্যকে “বিপজ্জনক এবং নক্কারজনক” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতো নেত্রীরা যারা ‘লড়কি হুঁ লড় সাকতি হুঁ’ স্লোগান দেন, তাঁরা কেন এই কুরুচিকর মন্তব্যে চুপ?” অন্যদিকে, তৃণমূল থেকে শুরু করে কংগ্রেসের মহিলা নেত্রীরাও পাপ্পু যাদবের এই গড়পড়তা মন্তব্যকে “নারীবিদ্বেষী” বলে আক্রমণ করেছেন।
বর্তমানে কোথায় পাপ্পু যাদব?
সূত্রের খবর, এই বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন পাপ্পু যাদব পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মালদা-য় রয়েছেন। তবে বিতর্কিত মন্তব্যের পর তিনি ‘হিটস্ট্রোক’-এ আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ বোধ করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। যদিও কমিশন বা রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে এই গুরুতর অপমান থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।





