বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তাপ বাড়ছে। সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’-কে ওই পথ পার হতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধু দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরান কেন হঠাৎ বাংলাদেশের জাহাজকে আটকে দিল, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।
আসল কারণ কী?
ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকলেও বর্তমান উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কয়েকটি কারণ সামনে আসছে:
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং আমেরিকা-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের কারণে হরমুজ প্রণালিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ইরান। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক জাহাজের গতিবিধিই সেখানে সীমিত করা হয়েছে।
কূটনৈতিক মতপার্থক্য: সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরান নীতির বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে ইরান অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তেহরানের দাবি ছিল, বাংলাদেশ যেন আরও স্পষ্টভাবে এই পরিস্থিতির নিন্দা জানায়। এই কূটনৈতিক শীতলতা থেকেই জাহাজের যাতায়াতে কড়াকড়ি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও মাইন আতঙ্ক: ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই জলপথে সম্ভাব্য মাইন এবং সংঘর্ষ এড়াতে বিকল্প রুট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই যাতায়াত সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
উদ্বেগে বাংলাদেশ, কূটনীতিই ভরসা
বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পথে আটকে থাকা জাহাজে অশোধিত তেল ও অন্যান্য জরুরি পণ্য রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই দ্বন্দ্বে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে চায়।
ইরান আশ্বস্ত করেছে যে, তারা বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
কী হতে পারে এর প্রভাব?
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা মানেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়া। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পথ দীর্ঘসময় বন্ধ থাকা মানেই বাজারে বড়সড় টান পড়া। তাই ঢাকা এখন দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই জট কাটানোর চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ কি পারবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে ইরানকে রাজি করাতে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।





