নির্বাচনী লড়াই যত এগোচ্ছে, ভাষা ও শালীনতার লড়াই ততই তলানিতে ঠেকছে। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদী’ (Terrorist) বলে আক্রমণ করে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর এই বেনজির আক্রমণে স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
কী বললেন কংগ্রেস সভাপতি?
একটি জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে খাড়গে বলেন, যে দল এবং যে নেতা বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে শাসন করতে চান, তাঁরা আদতে সন্ত্রাসবাদের পথ অবলম্বন করছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ‘সন্ত্রাসবাদী’ শব্দটির প্রয়োগ করেন। খাড়গের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
বিজেপির বিধ্বংসী পাল্টা তোপ
খাড়গের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্ট আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে:
মর্যাদাহানি: একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের মুখে দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য এই শব্দপ্রয়োগ ভারতের গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক।
হতাশার লক্ষণ: নির্বাচনে হার নিশ্চিত বুঝেই কংগ্রেস এখন গালিগালাজের রাজনীতিতে নেমেছে।
ইতিহাসের স্মরণ: বিজেপি মনে করিয়ে দিয়েছে, এর আগেও ‘মউত কা সওদাগর’ বা ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ বলে আক্রমণ করে কংগ্রেস মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এবার ‘সন্ত্রাসবাদী’ মন্তব্যও তাঁদের পতনের কারণ হবে।
চাপ বাড়ছে হাত শিবিরের ওপর
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে খাড়গের এই মন্তব্যকে বিজেপি ‘দেশপ্রেম বনাম দেশদ্রোহিতা’র লড়াই হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে গেল। খাড়গের এই আক্রমণ ভোটারদের সহানুভূতি মোদীর দিকে ঘুরিয়ে দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি।
রাজনৈতিক লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলা কি সমর্থনযোগ্য? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।





