নয়ডার শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলন কি স্বতঃস্ফূর্ত ছিল, নাকি এর পেছনে ছিল কোনও গভীর চক্রান্ত? নয়ডা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) দাবি করছে, নয়ডার সেক্টর ১৩এ-তে হওয়া সেই তাণ্ডব ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার মূল পান্ডা বা ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর নাম খুঁজে পেয়েছে।
কীভাবে চলত ষড়যন্ত্র?
তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, সাধারণ শ্রমিকদের অভাব-অভিযোগকে হাতিয়ার করে এক বিশেষ গোষ্ঠী শিল্পতালুকে অশান্তি ছড়ানোর ছক কষেছিল। পুলিশের হাতে আসা কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং কল রেকর্ড থেকে জানা গিয়েছে:
টাকার লেনদেন: আন্দোলনের জন্য বাইরে থেকে বড় অঙ্কের টাকার যোগান দেওয়া হয়েছিল।
ভাড়ার লোক: মূল আন্দোলনের ভিড়ে প্রচুর বহিরাগত লোক ছিল, যারা সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে ভাঙচুর চালিয়েছে।
ডিজিটাল মোডাস অপারেন্ডি: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে অশান্তি উসকে দেওয়া হয়েছিল।
ফাঁস হলো মাস্টারমাইন্ডের নাম
পুলিশ সূত্রে খবর, এই পুরো অপারেশনের মূলে রয়েছে এক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং একটি নিষিদ্ধ শ্রমিক সংগঠনের যোগসাজশ। যদিও তদন্তের স্বার্থে মূল অভিযুক্তের পুরো নাম এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবে শীঘ্রই তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন নয়ডার পুলিশ কমিশনার। সেক্টর ১৩এ-র বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
শিল্পক্ষেত্রে আশঙ্কার মেঘ
নয়ডার এই সেক্টরে বেশ কিছু বড় বহুজাতিক সংস্থার অফিস ও কারখানা রয়েছে। পরিকল্পিত এই অশান্তির ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগে শিল্পমহল। উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে যে, কোনও শিল্প সংস্থায় যদি বহিরাগত মদতে অশান্তি হয়, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ‘রাসুকা’ (NSA) আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





