পারিবারিক অশান্তির জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকা। মঙ্গলবার মধ্যরাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘর ছাড়েন এক গৃহবধূ। রাগের মাথায় নেওয়া সেই জেদ যে এত বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি পড়শীরা। বুধবার সকালে গ্রামের একটি পুকুর থেকে ওই বধূ এবং তাঁর দুই সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই বনিবনা ছিল না। মঙ্গলবার রাতে ঝগড়া চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ, স্বামী ওই বধূকে গালিগালাজ এবং শারীরিক নিগ্রহ করেন। এরপরই রাত প্রায় ২টো নাগাদ দুই সন্তানকে (একজনের বয়স ৩ বছর, অন্যজনের ৫ বছর) নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন হয়তো রাগের মাথায় বাপের বাড়ি গিয়েছেন, কিন্তু সকাল হতেই মেলে শিউরে ওঠা খবর।
গ্রামবাসীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনা
সকালে পুকুর ঘাটে তিনজনের দেহ ভাসতে দেখে গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, স্বামীর অত্যাচাক সহ্য করতে না পেরেই ওই বধূ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত স্বামীকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। গ্রামবাসীদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “সব দোষ ওই স্বামীর, ও-ই ওদের মরতে বাধ্য করেছে।”
পুলিশি তদন্ত ও আটক
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। দেহগুলি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত স্বামীকে উদ্ধার করে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি আত্মহত্যা ও খুনের (সন্তানদের জলে ডুবিয়ে মেরে নিজে আত্মহত্যা) ঘটনা। তবে মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে।





