২০২৬-এর মেগা লড়াইয়ের ময়দানে এবার ইস্যু ‘মহার্ঘ ভাতা’ বা ডিএ (DA)। মঙ্গলবার ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ৪ শতাংশ ডিএ না পাওয়া নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে (ECI) কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার টাকা দিতে প্রস্তুত থাকলেও কমিশনের ‘অকারণ’ বাধায় তা পৌঁছচ্ছে না কর্মীদের হাতে।
কমিশনকে কেন আক্রমণ?
জনসভার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, তাঁর সরকার গত মার্চ মাসেই বাজেট এবং ক্যাবিনেটে ৪ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণার পর ‘মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট’ বা নির্বাচনী আচরণবিধির দোহাই দিয়ে সেই ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায়:
“আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু এখন নির্বাচন কমিশন তা দিতে দিচ্ছে না। কেন আটকানো হচ্ছে?”
“আমি কর্মীদের টাকা দিতে চাই, কিন্তু কমিশন বলছে এখন দেওয়া যাবে না। কেন সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হবে?”
প্রেক্ষাপট: ডিএ ও ২০২৬-এর ভোট
উল্লেখ্য, গত ১৫ই মার্চ ২০২৬—নির্বাচন ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (ROPA 2009 অনুযায়ী) মেটানোর ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। ১লা এপ্রিল থেকে এই অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, যা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ভোটকর্মীদের ক্ষোভ ও রাজনীতির মোড়
ইতিমধ্যেই ভোটকর্মী সংগঠনগুলো এই ৪ শতাংশ ডিএ-র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিতে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। ঠিক এই সময়ে মমতার এই জনসভা থেকে করা আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
ভোটব্যাঙ্ক: রাজ্য সরকারি কর্মীদের একটি বড় অংশ ডিএ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষুব্ধ। এই মন্তব্যের মাধ্যমে মমতা সেই দায় সরাসরি কমিশনের (এবং পরোক্ষে কেন্দ্রের) ওপর চাপাতে চাইলেন।
বিজেপির পাল্টা: বিজেপি অবশ্য দাবি করেছে, মুখ্যমন্ত্রী ভোটের আগে ভাঁওতা দিচ্ছেন। টাকা দেওয়ার আসল সদিচ্ছা থাকলে অনেক আগেই তা দেওয়া যেত।





