আসন্ন নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহে নতুন করে দানা বাঁধছে এক গভীর উদ্বেগ। রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, বাদ পড়া নামের সিংহভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। আর এই বাদ পড়াকে কেন্দ্র করেই এখন ডালপালা মেলছে নতুন বিতর্ক—তবে কি সুপরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্তা করার নীলকশা তৈরি হচ্ছে?
আতঙ্কের কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশি’ তকমা
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খবর অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এই আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি। অভিযোগ উঠছে যে, যান্ত্রিক ত্রুটি বা প্রশাসনিক গাফিলতির চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে সামাজিক বিড়ম্বনা। ভোটার কার্ড না থাকা মানেই যেন সেই ব্যক্তি ‘অনুপ্রবেশকারী’—এমন একটি প্রচার সুকৌশলে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা শুধুমাত্র ভোটাধিকার হরণ নয়, বরং এটি নাগরিকত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ার প্রাথমিক ধাপ। নাম বাদ পড়া মুসলিম পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা:
তাদের পৈত্রিক ভিটেমাটি থাকা সত্ত্বেও বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে।
সরকারি পরিষেবা এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে।
সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে একে ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও জনগণের দাবি
যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই তালিকা সংশোধন করা হয়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমছে না। নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন ছিল। কোনো ব্যক্তি যদি সত্যিই বৈধ নাগরিক হন, তবে শুধুমাত্র নথিপত্র বা যান্ত্রিক ভুলের কারণে তাকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
সম্পাদকের কলমে: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলায় যে মেরুকরণের রাজনীতি শুরু হয়েছে, তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া জরুরি, যাতে কোনো বৈধ নাগরিককে নিজের দেশে ‘পরবাসী’ হয়ে থাকতে না হয়।





