পূর্ব উপকূলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা! নৌবাহিনীর নেতৃত্বে জ্বালানি সুরক্ষা বলয় তৈরিতে বড় পদক্ষেপ ভারতের

পূর্ব উপকূল বরাবর সামুদ্রিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে সামিল হলো ভারতীয় নৌবাহিনী। সম্প্রতি বিশাখাপত্তনমে ৪৮তম আঞ্চলিক জরুরি অবস্থা কমিটি (পূর্ব)-এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ ভাইস অ্যাডমিরাল সুশীল মেননের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে জ্বালানি সম্পদের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
তেল প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষা ও শিল্প সংস্থার অংশগ্রহণ:
বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল অফশোর তেল প্ল্যাটফর্ম এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পরিকাঠামো রক্ষা করা। এতে ওএনজিসি (ONGC), রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, বেদান্ত লিমিটেড, অয়েল ইন্ডিয়া এবং রিলায়েন্সের মতো বড় শিল্প সংস্থাগুলো অংশগ্রহণ করে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কাকিনাদায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ নজরদারি:
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রেক্ষিতে নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কাস্টমস, সিআইএসএফ, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এবং রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তারাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বাণিজ্য রুটগুলোতে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য নৌবাহিনীর মোতায়েন এবং নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বদল হচ্ছে যুদ্ধের ধরন:
ভাইস অ্যাডমিরাল সুশীল মেনন উল্লেখ করেন যে, আধুনিক যুদ্ধের প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমান যুগে কেবল সামরিক শক্তি নয়, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ব উপকূলের খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তাই সেগুলোর সুরক্ষায় সরকার এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন হাই-অ্যালার্ট মোডে রয়েছে।