আর্থিক দেউলিয়া দশা থেকে বাঁচতে ফের একবার বন্ধু দেশগুলোর ওপর চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। সৌদি আরবের কাছ থেকে পাওয়া ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেশটির কঙ্কালসার অর্থনৈতিক অবস্থাকেই চরমভাবে প্রকট করে তুলেছে। স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তান (এসবিপি) নিশ্চিত করেছে যে, এই অর্থ সম্প্রতি সম্মত হওয়া ৩ বিলিয়ন ডলার আমানতের দ্বিতীয় কিস্তি। এর আগে গত সপ্তাহেই ২ বিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তি পেয়েছিল ইসলামাবাদ। অর্থাৎ, মোট ৩ বিলিয়ন ডলারের আমানত প্রক্রিয়া এখন সম্পন্ন হলো।
কিন্তু এই সাহায্য কি সত্যিই পাকিস্তানের সমস্যার সমাধান করবে? পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাম্প্রতিক সৌদি সফরের পর এই অর্থ এলেও, তা পাকিস্তানের ভাঁড়ারে খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। চলতি মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (UAE) প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের পুরনো ঋণ পরিশোধ করার কথা রয়েছে পাকিস্তানের। সৌদির এই ১ বিলিয়ন ডলার কার্যত সেই পাহাড়প্রমাণ দেনা মেটাতেই খরচ হয়ে যাবে। ফলে আইএমএফ (IMF) এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তান জানিয়েছে, সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া এই আমানতের মেয়াদ ২০ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত। একদিকে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা—এর মাঝে সৌদি আরব যে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের জমার কথা ঘোষণা করেছে, তা মূলত বর্তমান ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধাকে তিন বছরের জন্য সম্প্রসারিত করা মাত্র। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ পরিশোধের জন্য বারবার নতুন ঋণ নেওয়ার এই ‘চক্র’ পাকিস্তানের অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে সৌদি আরবের মতো মিত্র দেশগুলো পাশে দাঁড়ালেও, পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।





