প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন শুরুর আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। বাংলার নির্বাচনের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক হিংসার কালো ছায়া এবার মুছে ফেলতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ভোট-পরবর্তী বা ভোট-পূর্ববর্তী অশান্তি রুখতে এবার চালু করা হয়েছে এক বিশেষ কমান্ডো অপারেশন— ‘অ্যাডভান্স অল আউট: ফেজ ১’।
এই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিআরপিএফ (CRPF)। এবার শুধু রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা নয়, জওয়ানদের দায়িত্বে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। এই অপারেশনের প্রথম লক্ষ্য হলো গ্রামীণ স্তরে ভোটারদের মনে হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা। সিআরপিএফ জওয়ানরা এখন শুধু টহল দিচ্ছেন না, বরং সরাসরি গ্রামের অলিগলি পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের দুয়ারে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলছেন ভোটারদের সঙ্গে, শুনছেন তাঁদের আশঙ্কার কথা এবং অভয় দিচ্ছেন যে কোনো বাধা ছাড়াই তাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক হুমকি বা দাদাগিরি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে বা ভয় দেখায়, তবে সিআরপিএফ-কে সরাসরি কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে ড্রোন এবং বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি শুরু হয়েছে ব্যাপক ‘নাকা চেকিং’।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নিরাপত্তার ঘেরাটোপ অনেক বেশি নিশ্ছিদ্র। এবারের কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই ‘অ্যাডভান্স অল আউট’ মোড শুধু নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে নয়, সাধারণ মানুষের বন্ধু হিসেবে কাজ করছে। এখন দেখার, এই বেনজির নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনিতে বাংলার ভোট কতটা রক্তপাতহীন এবং অবাধ হয়।





