সীমান্ত পেরিয়ে ধেয়ে আসছে মরণফাঁদ! কাসুরের চামড়া কারখানার বর্জ্যে নীল পাঞ্জাবের সুতলজ

পাঞ্জাবের ফাজিলকা জেলার আরনিওয়ালা এলাকা থেকে এক হাড়হিম করা ছবি সামনে এসেছে। এলাকার খালগুলোতে এখন আর স্বচ্ছ জল নয়, বরং বইছে আলকাতরার মতো কালো ও ঘোলাটে বিষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে আসা এই চরম দূষিত রাসায়নিক মিশ্রিত জল সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোর জীবনযাত্রা বিপন্ন করে তুলেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, ভূগর্ভস্থ জলও এখন পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

কাসুরের বিষে নীল সুতলজ
অনুমান করা হচ্ছে, পাকিস্তানের কাসুর জেলার চামড়া কারখানাগুলো থেকে ক্রমাগত বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য সুতলজ নদীতে ফেলা হচ্ছে। সেই দূষিত স্রোত ভারতীয় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর খালগুলোতে মিশে যাচ্ছে। বাল্লুয়ানা বিধানসভা কেন্দ্রের কাটাইহরা গ্রামের বাসিন্দারা এখন এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য হাহাকার করছেন। প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুরজিৎ কুমার জিয়ানির পৈতৃক গ্রামেও এখন জল সংকট চরমে।

রোগের আঁতুড়ঘর ও প্রশাসনের ব্যর্থতা
খালের জল অতিরিক্ত বিষাক্ত হওয়ায় জল সরবরাহ সংস্থা বাধ্য হয়ে সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। গ্রামবাসীরা বাধ্য হয়ে হ্যান্ডপাম্পের জল পান করছেন, যা আর্সেনিক ও অন্যান্য খনিজে ঠাসা। পঞ্চায়েত ব্যক্তিগত উদ্যোগে নলকূপ বসালেও সেই জলও পানের যোগ্য নয়। মানুষ এখন চড়া দামে জল কিনে তেষ্টা মেটাচ্ছেন। গ্রামের সরপঞ্চ জগৎপাল ভাখর প্রশাসনের উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গ্রামে অবিলম্বে আরও বেশি সংখ্যায় আরও প্ল্যান্ট (RO Plant) স্থাপন করতে হবে।

এদিকে, পাঞ্জাব সরকারের অর্থমন্ত্রী হরপাল চিমা এই সমস্যার জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তান থেকে আসা এই বিষাক্ত জল রুখতে আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাঁধ বা বিশেষ ফিল্টার ব্যবস্থার প্রয়োজন, যার জন্য কেন্দ্রীয় সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে কেন্দ্র পদক্ষেপ না করলে রাজ্য সরকার নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy