“কীভাবে আমাকে হারালেন?” খ্যাত সাহার শেখের বড় চাল! জাল সার্টিফিকেট বিতর্কে নীরবতা ভাঙলেন দাপুটে কাউন্সিলর

একদা “কীভাবে আমাকে হারালেন?” উক্তিটির মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া থানের এআইএমআইএম (AIMIM) কাউন্সিলর সাহার শেখ আবারও খবরের শিরোনামে। তবে এবার কোনো ভাইরাল উক্তি নয়, বরং তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে নির্বাচনে জাল জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগ। গত কয়েকদিন ধরে চলা জল্পনা ও সমালোচনার পর অবশেষে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নীরবতা ভেঙেছেন তিনি। অভিযোগগুলোকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সাহার।

“আমাকে পলাতক ঘোষণা করা হয়েছে”:
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাহার শেখ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমাকে রাজনৈতিকভাবে বদনাম করার ছক কষা হচ্ছে। গত ছয় দিন ধরে আমার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মানুষ আমাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পলাতক’ পর্যন্ত ঘোষণা করে দিয়েছিল। আমি কোথাও পালিয়ে যাইনি, আমি মানুষের মাঝেই কাজ করছিলাম।” তিনি জানান, প্রথমে আইনি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তবেই তিনি জনসমক্ষে মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তহসিলদার ও অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ:
সাহার শেখ কেবল আত্মপক্ষ সমর্থনই করেননি, বরং আক্রমণাত্মক মেজাজে পাল্টা লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, যে তহসিলদার তাঁর বিরুদ্ধে একতরফা ও বিতর্কিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছেন, তাঁকে ইতিমধ্যেই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও যে সমস্ত ব্যক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল তাঁর ছবি ব্যবহার করে মানহানিকর প্রচার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হচ্ছে।

কাউন্সিলরের দাবি, তাঁর বাবা মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা নন—এমন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাঁকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা সংবিধান মানা নাগরিক। বিচার ব্যবস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। যারা মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন, আদালতে তাঁদের সাথে আমার দেখা হবে। প্রতিটি অভিযোগের আইনি জবাব দেব।”

জাল সার্টিফিকেট বিতর্ক এখন আদালতের চৌকাঠে। সাহার শেখের এই আইনি অবস্থান থানের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy