বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপলে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের ঘোষণা করা হলো। সোমবার সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বর্তমান সিইও টিম কুক তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুঁদে কর্মকর্তা জন টার্নাস।
টিম কুকের বিদায় ও নতুন ভূমিকা:
৬৫ বছর বয়সী টিম কুক ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর দীর্ঘ ১৩ বছরের নেতৃত্বে অ্যাপল আজ প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের এক দানবীয় সংস্থায় পরিণত হয়েছে। সিইও পদ ছাড়লেও কুক সংস্থা থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না; তিনি অ্যাপল বোর্ডের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এক আবেগঘন বিবৃতিতে কুক বলেন, “অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। এই সংস্থার জটিল সাপ্লাই চেন থেকে শুরু করে প্রতিটি উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”
কে এই জন টার্নাস?
অ্যাপলের নতুন কাণ্ডারি হতে চলা জন টার্নাস সংস্থার ভেতরেই অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও দক্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালে প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমে যোগ দেওয়া টার্নাস গত দুই দশকে আইফোন, আইপ্যাড এবং ম্যাক কম্পিউটারের মতো যুগান্তকারী পণ্যগুলির হার্ডওয়্যার ডিজাইনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সরাসরি টিম কুকের অধীনে কাজ করে নিজেকে তৈরি করেছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর টার্নাস জানিয়েছেন, স্টিভ জোবসের দর্শন এবং টিম কুকের মেন্টরশিপকে সঙ্গী করে তিনি সংস্থাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অ্যাপলের ৫০ বছর ও আগামীর চ্যালেঞ্জ:
১৯৭৬ সালে স্টিভ জোবস ও স্টিভ ওজনিয়াকের হাত ধরে যে গ্যারেজ থেকে অ্যাপলের যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে সেই সংস্থা তার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। তবে এই সুবর্ণ জয়ন্তীতে টার্নাসের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এর ঝোড়ো হাওয়ায় প্রতিযোগীদের টেক্কা দিয়ে আইফোন এবং অন্যান্য পণ্যে কীভাবে নতুনত্ব আনা যায়, সেটাই এখন দেখার।
বোর্ডের বিদায়ী চেয়ারম্যান আর্থার লেভিনসন টিম কুকের সততা ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। টার্নাসের অভিষেককে টেক দুনিয়া অ্যাপলের ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবেই দেখছে।





